Menu

Press Release 2017 – Day 3

শুরু হলো বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ২০১৭-এর তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠান

পাঁচ দিনব্যাপী বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের তৃতীয় দিনের আয়োজন শুরু হয় ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে, ২৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায়।

তৃতীয় দিনের পরিবেশনার শুরুতেই দলগত সেতার বাদন পরিবেশন করেন বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ। সেতার দলে ছিলেন প্রসেনজিৎ মণ্ডল, টি এম সেলিম রেজা, রিংকু চন্দ্র দাস, মেহরিন আলম, জ্যোতি ব্যানার্জী, মোহাম্মদ কাউসার এবং জাহাঙ্গীর আলম শ্রাবণ। তাদের সঙ্গে তবলায় ছিলেন প্রশান্ত ভৌমিক ও সুপান্থ মজুমদার। পণ্ডিত কুশল কুমার দাসের কম্পোজিশনে তারা কিরওয়ানি রাগে সেতার অর্কেস্ট্রা পরিবেশন করেন। পরিবেশনা শেষে শিল্পীদের হাতে উৎসব স্মারক তুলে দেন বরেণ্য শিল্পী বিদ্বান ভিক্ষু বিনায়করাম।

এরপর ঘাটম ও কাঞ্জিরা পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন গ্র্যামি বিজয়ী পদ্মভূষণ বিদ্বান ভিক্ষু বিনায়করাম, তাঁর পুত্র সেলভাগনেশ বিনায়করাম ও পৌত্র স্বামীনাথন; অর্থাৎ এবারে এক মঞ্চে তিন প্রজন্মের পরিবেশনা একসাথে উপভোগ করেন দর্শকরা। তাদের সঙ্গে মরসিংয়ে ছিলেন এ. গনেশন। নিজেদের পরিবেশনার শুরুতেই তারা ঘাটমে শিব তাণ্ডব, সেভেন অ্যান্ড হাফ বিট কম্পোজিশন বাজান। পরে তারা গুরুবন্দনা ও গণপতি তাল বাজিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। শিল্পীদের হাতে উৎসবের সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপার্সন স্যার ফজলে হাসান আবেদ।

ঘাটম ও কাঞ্জিরার পর ড. ফকির শহীদুল ইসলাম ও জি এম সাইফুল ইসলামের পরিচালনায় খেয়াল পরিবেশন করে সরকারি সংগীত কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা পরিবেশন করেন রাগ মালকোষ। তাদের সাথে তবলায় সঙ্গত করেছেন সৈয়দ সাজিদ হোসেন ও মো. রাশেদুল হাসান, হারমোনিয়ামে ছিলেন মো. মফিজুর রহমান, এবং সারেঙ্গীতে মতিয়ার রহমান। পরিবেশনা শেষে তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন শাস্ত্রীয় সংগীতের খ্যাতিমান শিল্পী পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী।

এরপর সরোদ পরিবেশন করেন শিল্পী আবির হোসেন। তাঁর সঙ্গে তবলায় ছিলেন যোগেশ শামসি, এবং তানপুরায় অভিজিৎ দাশ। শিল্পী পরিবেশন করেন রাগ আভোগী। পরিবেশনা শেষে আবির হোসেনের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী।

সরোদ পরিবেশনার পর বাঁশি বাদন নিয়ে মঞ্চে আসেন গাজী আবদুল হাকিম। তিনি দেশ রাগ, পিলু ঠুমরী ও কয়েকটি ধুন পরিবেশন করেন শ্রোতাদের জন্য। তাঁর সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করেন দেবেন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি, এবং তানপুরায় সঙ্গত করেন বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থী সামীন ইয়াসার ও এস এম আশিক আলভি। পরিবেশনা শেষে শিল্পীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন আবাহনী লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান।

বাঁশির পর ধ্রুপদ সংগীতে দর্শকদের মোহিত করেন শাস্ত্রীয় সংগীতের সনাতন ধারার বিশিষ্ট পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকর। তিনি পরিবেশন করেন রাগ মাড়ু ও রাগ তিলং । তাঁর সঙ্গে পাখোয়াজে সঙ্গত করেন সুখাদ মুণ্ডে, এবং তানপুরায় সংগত করেন বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থী অভিজিৎ কুণ্ডু ও টিংকু কুমার শীল। পরিবেশনা শেষে পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকরের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের।

ধ্রুপদ পরিবেশনাটি শেষে গায়কী অঙ্গের বেহালা বাদন নিয়ে মঞ্চে আসেন বিদূষী কলা রামনাথ। তিনি পরিবেশন করেন রাগ নট ভৈরব, এবং রাগ বসন্ত। শিল্পীকে তবলায় সঙ্গত করেন যোগেশ শামসি, এবং তানপুরাতে সঙ্গত করেন জ্যাতাশ্রী রায় চৌধুরী ও চন্দ্রা সাহা স্মৃতি। পরিবেশনা শেষে শিল্পীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, এম পি।

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ২০১৭-এর তৃতীয় দিনের শেষ পরিবেশনাটি ছিল পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর খেয়াল। প্রথমে তিনি পরিবেশন করেন রাগ গুনকেলি, এবং যোগিয়া রাগে বাংলা গান। শেষে তিনি একটি ভজন পরিবেশন করেন। শিল্পীকে তবলায় সঙ্গত করেন পণ্ডিত যোগেশ শামসি, হারমোনিয়ামে গৌরব চ্যাটার্জি, এবং তানপুরায় বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থী উজ্জ্বল কুমার মালাকার ও অভিজিৎ দাশ। পরিবেশনা শেষে পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল ‍মুহিত, এম পি।

সংগীত উপভোগের পাশাপাশি খাবার ও পানীয়ের জন্য উৎসব প্রাঙ্গণে রয়েছে ফুড কোর্ট। পাশাপাশি উৎসব প্রাঙ্গণে চলছে বাংলাদেশের সংগীত সাধক ও তাদের জীবনী নিয়ে একটি সচিত্র প্রদর্শনী এবং বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপস অ্যান্ড সেটলমেন্টস এর ‘সাধারণের জায়গা’ শীর্ষক প্রদর্শনী।

এ ছাড়া উৎসব প্রাঙ্গণে স্টল স্থাপন করেছে বেঙ্গল ডিজিটাল, বেঙ্গল এক্সপ্রেস, বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়, অরণ্য, বেঙ্গল ভিজ্যুয়াল আর্টস প্রোগ্রাম, বেঙ্গল বই, ব্র্যাক ব্যাংক ও স্কয়ার গ্রুপ। আছে ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম বুথ। সাংবাদিকদের জন্য আছে ওয়াইফাই জোন।

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ২০১৭-এর নিবেদক স্কয়ার গ্রুপ। আয়োজন সর্মথন করছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, মেডিক্যাল পার্টনার স্কয়ার হাসপাতাল, অনুষ্ঠানে সম্প্রচার সহযোগী চ্যানেল আই, মিডিয়া পার্টনার আইস বিজনেস টাইমস, আতিথেয়তা সহযোগী প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও। আয়োজন সহযোগী ইনডেক্স গ্রুপ, বেঙ্গল ডিজিটাল, বেঙ্গল বই ও বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়। ইভেন্ট ব্যবস্থাপনায় ব্লুজ কমিউনিকেশনস। উৎসবের সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে পারফেক্ট হারমনি, সিঙ্গাপুর।

গত পাঁচ বছর ধরে আয়োজিত ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব’ শিল্পী ও দর্শকের অংশগ্রহণের নিরিখে এরই মধ্যে এই উপমহাদেশ তথা বিশ্বের র্সবাধিক বড় পরিসরের উচ্চাঙ্গসংগীতের আসর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ বছর উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে বরেণ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সংস্কৃতিতাত্ত্বিক এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানকে।

উল্লেখ্য, এ বছর উৎসবের উদ্বোধন হয় ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টায়। গত দু’দিনে আসর মাতিয়েছেন ড. এল সুব্রহ্মন্যণ, বিদূষী পদ্মা তালওয়ালকর, রাকেশ চৌরাসিয়া, পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা, পণ্ডিত উলহাস কশলকর, ওস্তাদ শাহিদ পারভেজ খাঁ, পণ্ডিত রণু মজুমদার ও পণ্ডিত দেবজ্যোতি বোসের মত গুণীরা।

উৎসবের চতুর্থ দিন, ২৯ ডিসেম্বর, শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় পরিবেশনার শুরুতে থাকছে মনিপুরি, ভরতনাট্যম এবং কত্থক নৃত্য। অংশ নেবেন সুইটি দাস, অমিত চৌধুরী, স্নাতা শাহরিন, সুদেষ্ণা স্বয়মপ্রভা, মেহরাজ হক, এবং জুয়াইরিয়াহ মৌলি। এরপর সরোদ পরিবেশন করবেন বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ দিন পৃথক পৃথক খেয়াল পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসবেন ওস্তাদ রশিদ খান ও পণ্ডিত যশরাজ। এ ছাড়া থাকছে পণ্ডিত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদারের সরোদ, ড. মাইশুর মঞ্জুনাথের বেহালা, সাসিকয়া রাও দ্য-হাসের চেলো, এবং পণ্ডিত বুদ্ধাদিত্য মুখার্জির সেতার পরিবেশনা। তবে, অনিবার্য কারণবশত কোনো রকম ঘোষণা ছাড়াই উল্লেখিত সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

thumbnail Sitar by Students of Bengal Parampara Sangeetalay

thumbnail Ghatam by Vidwan Vikku Vinayakram and Kanjira by Selvaganesh Vinayakram

thumbnail Khayal by Govt. Music College

thumbnail Sarod by Abir Hossain

thumbnail Vikku Vinayakram with Bengal Parampara Sitar Group

thumbnail Dhrupad by Pandit Uday Bhawalkar

thumbnail Khayal by Pandit Ajoy Chakrabarty

thumbnail Flute by Gazi Abdul Hakim