Menu

Press Release 2017 – Day 1

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ২০১৭এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ৬ষ্ঠ বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব। ‌সংগীত জাগায় প্রাণ– এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ২৬ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব। উদ্বোধনী পর্বে ড. এল সুব্রহ্মমণ্যন বেহালায় পরিবেশন করেন আভোগী রাগ। মৃদঙ্গমে সঙ্গত করেন শ্রী রামামূর্তি ধুলিপালা, তবলায় ছিলেন পণ্ডিত তন্ময় বোস এবং মোরসিং-এ ছিলেন সত্য সাই ঘণ্টশালা।

এরপরেই মঞ্চে আসে উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ আস্তানা সিম্ফনি ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রা। দলটি প্রথমে তিলেস কাজগালিব রচিত একটি সিম্ফোনির কিছু অংশ এবং পি আই চাইকভস্কির অমর সৃষ্টি ‘সোয়ান লেক’-এর কিয়দংশ পরিবেশন করে। ‌এরপরে আস্তানা সিম্ফনি ফিলহারমোনিক-এর আর্টিস্টিক ডিরেক্টর বেরিক বাত্যরখানের পরিচালনায় আস্তানা সিম্ফনি ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রার সঙ্গে কর্ণাটকি বেহালার যুগলবন্দি পরিবেশন করেন ড. এল সুব্রহ্মমণ্যন। এসময় শ্রোতাদের জন্য রাগ শান্তিপ্রিয়া পরিবেশন করেন তারা। এর সঙ্গে মৃগঙ্গমে ছিলেন শ্রী রামামূর্তি ধুলিপালা, তবলায় ছিলেন পণ্ডিত তন্ময় বোস এবং কাঞ্জিরায় ছিলেন সত্য সাই ঘণ্টশালা। এরপরে শিল্পীদের হাতে উৎসব স্মারক তুলে দেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, এমপি এবং তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, এমপি।

রাত ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ‌‌`বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ২০১৭’- এর। এসময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ‍উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, এমপি। মঞ্চে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের মান্যবর রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী, আবাহনী লিমিটেডের সভাপতি সালমান এফ রহমান, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর. এফ. হোসেন এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জনাব আবুল খায়ের।

উদ্বোধনী পর্বে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সদ্য প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক, গুণী শিল্পী বিদূষী গিরিজা দেবী এবং বিদূষী কিশোরী আমনকরের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানাতে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত, এমপি আয়োজকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ‘শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সবগুলো উৎসবে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছি। এবারের আয়োজনের সর্বপ্রথম প্রাচ্য এবং প্রতীচ্যের শাস্ত্রীয় সংগীতকে এক করার চেষ্টা করা হয়েছে’। তিনি আরো বলেন, ‘এবারের উৎসব আয়োজন করতে জায়গা নিয়ে কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাই আমি চাইব এ ধরনের জনকল্যাণমূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য একটা নির্দিষ্ট এলাকা ঠিক করে দিতে। তাছাড়া অন্যান্য দেশে এরকম অনুষ্ঠানের শুরুতে সে দেশের নিজস্ব অর্কেস্ট্রা দিয়ে পরিবেশন করা হয়। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের সেটা নেই। আমি চাইব আগামী আয়োজনে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্কেস্ট্রা পরিবেশিত হোক। আমাদের গুণী মানুষদের নিয়ে চেষ্টা করলে হয়ত আমরা তা করতে পারব।’

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর স্মরণ করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আবাহনী ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা শেখ কামাল এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের। তিনি বলেন, ‘সংগীত আমাদের পরিশুদ্ধ করে, অসাম্প্রদায়িক এবং মুক্তচিন্তার উদ্রেক করে, দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়। এই উৎসবের মাধ্যমে সেই চেতনার জাগরণ ঘটবে। সাম্প্রদায়িক এবং অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করতে এই উৎসব আমাদের প্রেরণা জোগাবে।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলা উৎসবে নিজের সম্পূর্ণ বক্তব্য দেন বাংলায়। তিনি বলেন, ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবে উপস্থিত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই উৎসব অসাম্প্রদায়িক এবং বহুসংস্কৃতির ধারক বাংলাদেশের মানুষকে আরো অনুপ্রাণিত করবে।’

স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘দেরিতে হলেও আনন্দের ব্যাপার এই যে, এই উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমি এই উৎসবের অবিস্মরনীয় সাফল্য কামনা করছি’।

আবাহনী লিমিটেডের সভাপতি সালমান এফ রহমান বলেন, ‘এই উৎসবের আয়োজনকে যারা সম্ভব করেছেন তাদের অভিনন্দন জানাই’।

ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর. এফ. হোসেন বলেন, ‘আমরা গর্বিত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব বাংলাদেশে আয়োজিত হয়। এরকম উৎসব নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে’।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের নিজের বক্তব্যে উৎসবের সকল পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষত: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশে একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লব হলে দেশের মানুষ আরো মানবিক হবে। আর যতদিন পর্যন্ত আমরা রশিদ খাঁ, ড. এল সুব্রহ্মমণ্যনের মতো বড় মাপের শিল্পী তৈরি করতে না পারব ততদিন আমাদের লক্ষ্য অর্জিত হবে না’। নিজ বক্তব্যের শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন- আগামীতে এই উৎসব ড. আবুল মাল আবদুল মুহিত, স্যার ফজলে হাসান আবেদ এবং ড. সনজীদা খাতুনকে উৎসর্গ করার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সরোদ পরিবেশন করেন রাজরূপা চৌধুরী। তার সাথে তবলায় সঙ্গত করেন পণ্ডিত অভিজিৎ ব্যানার্জি। শিল্পী বাজিয়েছেন অনিল মধ্যম রাগ। পরিবেশনা শেষে শিল্পীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, এমপি। এরপরে খেয়াল পরিবেশন করেন বিদূষী পদ্মা তালওয়ালকর। তার সাথে সঙ্গত করেন অঙ্কিতা দেওল (কণ্ঠ), তবলায় ছিলেন সঞ্জয় অধিকারী এবং হারমোনিয়ামে রূপশ্রী ভট্টাচার্য্য। শিল্পী প্রথমে পরিবেশন করেন কেদার রাগ। এরপর তিনি দেশ রাগে তারানা, মীরার ভজন, এবং সব শেষে পরিবেশন করেন রাগ বাগেশ্রী। পরিবেশনা শেষে বিদূষী পদ্মা তালওয়ালকরের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. আহরার আহমেদ।

এরপর সেতার পরিবশেন করেন ফিরোজ খান। তাঁর সঙ্গে তবলায় ছিলেন জাকির হোসেন। তিনি ঝিঁঝোটি রাগ ও ধুন পরিবেশন করেন। পরিবেশনা শেষে শিল্পীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলেন দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, এমপি।

ফিরোজ খানের পর খেয়াল পরিবেশন করেন সুপ্রিয়া দাস। তাঁর সঙ্গে তবলায় ছিলেন প্রশান্ত ভৌমিক এবং হারমোনিয়ামে গৌরব চ্যাটার্জি। তিনি মালকোষ রাগে খেয়াল ও দেশ রাগে ঠুমরী পরিবেশন করেন। পরিবেশনা শেষে তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের।

প্রথম দিনের আয়োজন শেষ হয় রাকেশ চৌরাশিয়ার বাঁশি ও পূর্বায়ন চ্যাটার্জির সেতারের যুগলবন্দির মধ্য দিয়ে। তাদের সঙ্গে তবলায় ছিলেন অভিজিৎ রায়।  শুরুতে তারা পরিবেশন করেন রাগ ললিত; পরে বাজিয়েছেন জোড়, ঝালা ও গত। দুই শিল্পী পরিবেশনা শেষ করেন রাগ ভৈরবীতে ধুন বাজিয়ে। শিল্পীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন জন-প্রশাসন সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান এমপি।

উৎসব প্রাঙ্গণে আরও চলছে বাংলাদেশের সংগীত সাধক ও তাদের জীবনী নিয়ে একটি সচিত্র প্রদর্শনী এবং বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপস অ্যান্ড সেটলমেন্ট এর ‘সাধারণের জায়গা’ শীর্ষক প্রদর্শনী।

খাবার ও পানীয়ের জন্য উৎসব প্রাঙ্গণে রয়েছে ফুড কোর্ট। এ ছাড়াও উৎসব প্রাঙ্গণে স্টল স্থাপন করেছে বেঙ্গল ডিজিটাল, বেঙ্গল এক্সপ্রেস, বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়, অরণ্য, বেঙ্গল ভিজ্যুয়াল আর্টস প্রোগ্রাম, বেঙ্গল বই, ব্র্যাক ব্যাংক ও স্কয়ার গ্রুপ। আছে ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম বুথও।

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ২০১৭-এর নিবেদক স্কয়ার গ্রুপ। আয়োজন সর্মথন করছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। অনুষ্ঠানে সম্প্রচার সহযোগী চ্যানেল আই। মিডিয়া পার্টনার আইস বিজনেস টাইমস। আতিথেয়তা সহযোগী প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও। সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে বেঙ্গল গ্রুপ। অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে বেঙ্গল ডিজিটাল, বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের সহযোগিতায়। ইভেন্ট ব্যবস্থাপনায় ব্লুজ কমিউনিকেশনস। উৎসবের সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে পারফেক্ট হারমনি, সিঙ্গাপুর।

গত পাঁচ বছর ধরে আয়োজিত ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব’ শিল্পী ও দর্শকের অংশগ্রহণের নিরিখে এরই মধ্যে এই উপমহাদেশ তথা বিশ্বের র্সবাধিক বড় পরিসরের উচ্চাঙ্গসংগীতের আসর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ বছর উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে বরেণ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সংস্কৃতিতাত্ত্বিক এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানকে।

দর্শকদের আগ্রহের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ২০১৭-এর রেজিস্ট্রেশন পুনরায় চালু হবে।

রেজিস্ট্রেশন লিংক: http://bengalclassicalmusicfest.com

উৎসবের দ্বিতীয় দিন ২৭ ডিসেম্বর বুধবার সন্ধ্যা সাতটায় পরিবেশনা শুরু হবে অদিতি মঙ্গলদাস ড্যান্স কোম্পানির কত্থক নৃত্যের মধ্য দিয়ে। এছাড়াও বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের তবলা পরিবেশনা, পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা পরিবেশন করবেন সন্তুর, পণ্ডিত উলহাস কশলকর গাইবেন খেয়াল, ওস্তাদ শাহিদ পারভেজ খান পরিবেশন করবেন সেতার। এরপর বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের অভিজিত কুণ্ডু পরিবেশন করবেন ধ্রুপদ। বাঁশি পরিবেশন করবেন পণ্ডিত রনু মজুমদার ও সরোদ পরিবেশনা করবেন পণ্ডিত দেবজ্যোতি বোস।

 

thumbnail From Left: Sriram Murthy, Sathya Sai Ghantasala, Dr. L. Subramaniam, Pandit Tanmoy Bose.

thumbnail Orchestra Performance by the Astana Symphony Philharmonic Orchestra
thumbnail From Left: Abul Khair, Tapan Chowdhury, Asaduzzaman Noor, Abul Maal Abdul Muhith, H.E. Harsh Vardhan Shringla, Salman F Rahman, Selim R. F. Hussain.

thumbnail Orchestra Performance by the Astana Symphony Philharmonic Orchestra
thumbnail Sitar by Firoz Khan

thumbnail Khayal by Padma Talwalkar

thumbnail Flute by Rakesh Chaurasia and Sitar by Purbayan Chatterjee

thumbnail Tabla by Abhijit Banerjee and Sarod by Rajrupa Chowdhury