Menu

Press Release 2017

thumbnail

বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত ও স্কয়ার নিবেদিত

 

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ০১৭

৬ষ্ঠ বর্ষ

সংবাদ সম্মেলন। ২২ অক্টোবর ২০১৭, রোববার । ওয়েস্টিন হোটেল, ঢাকা।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধু

আগামী ২৩ নভেম্বর থেকে পাঁচ দিনব্যাপী বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের ষষ্ঠ অধিবেশন আয়োজনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আপনারা অবগত আছেন গত পাঁচ বছর ধরে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব আর্মি স্টেডিয়ামে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারারাতের এই উৎসব পর্যায়ক্রমে দেশের মানুষের কাছে যে-গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে তা আপনাদের সক্রিয় সমর্থন ছাড়া কখনই সম্ভব হতো না। এই বার্ষিক আয়োজন এখন একটি জাতীয় অনুষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করেছে, যার অপেক্ষায় লক্ষাধিক মানুষ উন্মুখ হয়ে থাকেন।

আয়োজনের ব্যাপ্তি, বাংলাদেশের এবং ভারতের প্রথম সারির উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিল্পীর অংশগ্রহণে এবং দর্শকসংখ্যা বিচারে এই উৎসব পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উচ্চাঙ্গসংগীত আয়োজন হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এতে সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।

পরিকল্পনা

১। জাতীয় স্বার্থে এই উৎসবের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা একান্ত প্রয়োজন। প্রতিবারের মতো এবছরও গোড়ার দিকে আর্মি স্টেডিয়াম বরাদ্দের জন্য সেনা ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের কাছে আবেদন করা হয়।

২। এদিকে আগস্ট মাসের মধ্যে ভারতের প্রথম সারির উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পী, বাংলাদেশের নবীন ও প্রবীণ শিল্পী এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও যাত্রার তারিখ নির্ধারণসহ সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়।

৩। সেনা ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাঁদের ৩১ আগস্ট তারিখের চিঠিতে মাননীয় পোপের সফর উপলক্ষে প্রার্থিত সময়ে (২০ থেকে ২৮ নভেম্বর) আর্মি স্টেডিয়াম বরাদ্দ সম্ভব নয় বলে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করে।

৪। নির্ভরযোগ্য সূত্রে যখন জানা যায় যে পোপ মহোদয়ের আগমনের তারিখ ৩০ নভেম্বর অর্থাৎ উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব শেষ হবার দু’দিন পর এবং তাঁর প্রধান অনুষ্ঠানটি আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, তখন ৯ সেপ্টেম্বর তারিখে বরাদ্দের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সেনা ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের কাছে আবেদন করা হয়। এ-বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

৫। বিগত পাঁচ বছর একই নিয়মে নির্ধারিত ভাড়া জমা দিয়ে আর্মি স্টেডিয়াম বরাদ্দ পাওয়া সম্ভব হয়েছে। এ-বছর জায়গার বিষয়টি সময়মতো মীমাংসা না হওয়ায়, কাজ এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থে ইতোমধ্যে বিকল্প স্থান চিহ্নিত করে এর ভিত্তিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে বিদেশী শিল্পীদের অংশগ্রহণের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। এই সুবাদে জাতীয় রাজস্ব বিভাগে নির্ধারিত কর জমা দেওয়া হয়। তবে বিকল্প স্থানটিতে সারারাত অনুষ্ঠান পরিচালনার অনুমতি পাওয়া যায়নি।

৬। আন্তর্জাতিক মানের বড় পরিসরের এই উৎসবের পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিকল্পনা সম্পন্ন করতে ন্যূনতম আট মাস সময় প্রয়োজন হয়। সেপ্টেম্বর মাসে অর্থাৎ সাত মাস নিবিড়ভাবে সমন্বয়ের পর পরিকল্পনা পরিবর্তন বা সংকোচন সম্ভব নয় কারণ তার ফলে বিগত পাঁচ বছরের চর্চায় উৎসবের যে চরিত্র দাঁড়িয়েছে তা বিপন্ন হয়। একই কারণে স্থান পরিবর্তনহেতু তারিখ, সময় বা অনুষ্ঠানের পরিধি সংকোচন বা শিল্পী পরিবর্তন কোনটিই এ-পর্যায়ে সমীচীন নয়। বিদেশি শিল্পীদের জন্য সরকারের আর্মি স্টেডিয়াম একটি নিরাপদ স্থান হিসেবে সবার কাছে পরিচিত আর তাই চূড়ান্ত পর্যায়ে বিকল্প ভেন্যু বিবেচনার কোনো অবকাশ নেই।

২০১৬ সালে বেঙ্গল উৎসব

অতীতে উৎসব আয়োজনে কখনও অনিশ্চয়তা দেখা দিলে সরকারি নিরাপত্তা সংস্থা, পুলিশ, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, স্পন্সর ও পার্টনার, মিডিয়া, আমাদের কর্মী এবং সাধারণ মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং সে-জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

২০১৬ সালে বড় পরিসরের উৎসবকে কেন্দ্র করে শঙ্কা তৈরি হলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের গুরুত্ব ও মর্যাদা অনুধাবন করে মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সে-বছর সেপ্টেম্বর মাসে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আহ্বান করা হয়। সে-সভায় উৎসব আয়োজনের পক্ষে সরকারি মহলের আগ্রহ ও অঙ্গীকারের ফলে লক্ষ মানুষ সুশৃঙ্খলভাবে ও নিরাপদে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে সক্ষম হয়।

আমাদের কথা

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরা ও প্রবহমান সাংস্কৃতিক ধারাকে নবীন দৃষ্টিভঙ্গিতে সঞ্জীবিত করা এবং এই ধারার আলোকে চর্চা ও সাধনা অব্যাহত রাখাই বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য।
সাংস্কৃতিক চর্চার নানামুখী কর্মপ্রবাহের মধ্য দিয়ে জনরুচি, জীবন ও মননে মাত্রা সঞ্চার করতে আমরা প্রয়াসী। সংগীত দিয়েই আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮৭ সালে।

ভারতবর্ষে উচ্চাঙ্গসংগীতের ভিত প্রতিষ্ঠায় যাঁদের অন্যতম অবদান রয়েছে এবং পঞ্চাশ-ষাটের দশকে ও পরবর্তীকালে শাস্ত্রীয়সংগীতের বার্তা যাঁরা সারা বিশ্বে পৌঁছে দিয়েছিলেন আলাউদ্দিন খাঁ, আলী আকবর খাঁ, উদয়শঙ্কর, রবিশঙ্কর, আয়েত আলী খাঁ, বিলায়েৎ খাঁ পারিবারিক সূত্রে তাঁদের সকলেই এদেশের সঙ্গে যুক্ত। উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের আত্মপ্রকাশ ঘটে ২০১২ সালে। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবুল খায়ের তখন স্বপ্ন দেখেছিলেন যে, বড় পরিসরের অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশে শাস্ত্রীয়সংগীত উপস্থাপন করলে সাধারণ দর্শকের মাঝে তা সাড়া জাগাবে। নিয়মিতভাবে উৎসব আয়োজন করলে তা জনরুচিকে প্রভাবিত করবে এবং উচ্চাঙ্গসংগীতের যে গৌরবময় উত্তরাধিকার আমাদের রয়েছে, তা পুনরুজ্জীবিত হবে।

উচ্চাঙ্গসংগীতের সুবিশাল বিস্তৃতি ও তীক্ষ্ণ বোধ আমাদের মধ্যে জাগিয়ে তোলে মানবিক চেতনা ও গভীর মর্মবোধ। মানবিক হওয়ার এই প্রয়াসকে সামনে রেখেই এ বছর ষষ্ঠবারের মতো উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব আয়োজনে আমরা ব্রতী হই।

ষষ্ঠ বছরে জোর দিয়ে বলা যায় যে, সাধারণ দর্শক-শ্রোতার আগ্রহ বেড়েছে। যথার্থ রসাস্বাদন ও মনোনিবেশের ক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১২ সালে শ্রোতার এমন উপস্থিতি আশাতীত ছিল। হয়তো সুস্থ বিনোদনের অভাব, নিছক কৌতূহল, অথবা সংগীত-মনীষীদের চোখে দেখার, সামনাসামনি তাঁদের গান শোনার তাগিদ এসব কারণেই হয়তো কালক্রমে দর্শকসংখ্যা বেড়েছে। শাস্ত্রীয়সংগীতের বিশালতাকে অনুধাবন ও গভীরভাবে অনুভব করার একটি আকাঙ্ক্ষা আমাদের হৃদয়ে দানা বেঁধেছে, একথা অনস্বীকার্য।

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ফিরে দেখা...

২০১১ সালে আইটিসি সংগীত রিসার্চ অ্যাকাডেমি (এসআরএ)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ওই বছর ঢাকায় ও ময়মনসিংহে দুটি উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

২০১২ সালে প্রথমবার বড় পরিসরে একই মঞ্চে উচ্চাঙ্গসংগীতের বিশিষ্ট শিল্পীদের সমন্বয়ে চার দিনব্যাপী বেঙ্গল-আইটিসি এসআরএ উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব আয়োজিত হয়।

১। প্রথমবারের মতো ওয়েবের মাধ্যমে বিনামূল্যে নিবন্ধন প্রথা এই আয়োজনেই চালু করা হয়।

২। উৎসবস্থলে বিশেষ প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে শাস্ত্রীয়সংগীত চর্চার ইতিহাস তুলে ধরা হয়।

৩। চারদিনের উৎসবে উপস্থিত ছিলেন ৭০ হাজার দর্শক-শ্রোতা।

৪। গুরুকুল পদ্ধতিতে শিক্ষাদানের লক্ষ্যে বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয় প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশী শিল্পীদের নিয়ে ভারতে বড় পরিসরের অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলা হয়।

২০১৩ সালে ফেব্রুয়ারিতে আইটিসি এসআরএ-র সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশের ৫২ জন শিল্পীকে নিয়ে কলকাতায় প্রথমবারের মতো নয় দিনব্যাপী বাংলা গানের উৎসবের আয়োজন করা হয়।

১। ২০১৩ সালে স্কয়ার গ্রুপ পরিবেশন করে দ্বিতীয় বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব।

২। রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও সেইবার দর্শক উপস্থিতি এক লক্ষের কাছাকাছি ছিল।

২০১৪ সালে উৎসব আরো একদিন বর্ধিত করা হয়।

১। ব্র্যাক ব্যাংক উদ্যোগকে সমর্থন দান করে।

২। পাঁচ দিনব্যাপী তৃতীয় বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবে ১ লক্ষ ৫০ হাজারের বেশি দর্শক-শ্রোতা যোগ দেয়।

৩। উৎসবে সংবাদ সংগ্রহের নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।

৪। যাত্রা শুরু করে বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়।

৫। ব্লুজ কমিউনিকেশনসের সৌজন্যে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ওয়ার্ল্ড মিউজিক এক্সপোতে অংশগ্রহণ করে।

২০১৫ সালে উৎসবের প্রতীক-চিহ্ন/লোগো রি-ব্র্যান্ডিং করা হয়।

১। উৎসব সারারাত চললেও নিরাপত্তার কারণে দর্শকদের উৎসবস্থল ত্যাগ, নিবন্ধন ও উপস্থিতির বিষয়ে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

২০১৬ সালে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের প্রাক্কালে ঢাকার বাইরে স্থানীয় শিল্পী ও প্রশিক্ষক নিয়ে খুলনায় নিরীক্ষাধর্মী কর্মশালা আয়োজিত হয়।

১। আগস্টে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান মিউজিক রেসিডেন্সিতে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন মনোনীত বাংলাদেশের একজন নবীন শিল্পী অংশগ্রহণ করেন।

২। নভেম্বরে গ্যেটে ইনস্টিটিউট ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় ‘music as intangible heritage’ শীর্ষক সভা। সেখানে বিদেশি বিশেষজ্ঞরা অপরিমাপ্য ঐতিহ্যগত সম্পদ হিসেবে সংগীত, বিশেষত বাংলাদেশের গান নিয়ে আলোচনা করেন।

৩। সে-বছর বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের লেবেলে ধারণ করা সকল মিউজিক ট্র্যাক ২৫টি দেশে সুবিন্যস্ত অনলাইন পোর্টাল অরচার্ডে পর্যায়ক্রমে উপস্থাপন করা হয়।

৪। ২০১৬ সালে বেঙ্গল ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক ফেস্টিভ্যালের পৃথক ওয়েবসাইট www.bengalclassicalmusicfest.com উন্মোচন করা হয়।

২০১৭ সালে সিলেট শহরে দশ দিনব্যাপী বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। নাটক, সিনেমা, স্থাপত্যপ্রদর্শনী ও সেমিনার, ধ্রুপদী গান, পঞ্চকবির গান, আধুনিক বাংলা গান, লোকগান, কারুমেলা, খাবার, সাহিত্য সম্মেলন ও আর্ট ক্যাম্প সংবলিত বড় পরিসরের উৎসবটি জনসমাদর লাভ করে।

১। জুলাই মাসে তৃণমূলে লোকগান ধারণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রথম পর্যায়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও পরে সুনামগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী লোকগান ভিডিওতে সংরক্ষণ করা হয়।

২। আগস্টে সুনামগঞ্জে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ধামাইল উৎসব আয়োজিত হয়।

৩। সংগীতামোদী, সাধারণ শ্রোতা ও শিক্ষার্থীদের জন্য শাস্ত্রীয়সংগীত বুঝতে ও বোঝাতে বাংলা ভাষায় শাস্ত্রীয়সংগীতের পরিচিতিমূলক ৩৭টি অডিও ভিজুয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই সংকলন শ্রোতারা ইউটিউবে পাবেন।

৪। বিশ্লেষণধর্মী নানা লেখা নিয়ে আগামী মাসে শিল্পবিষয়ক ইংরেজি সাময়িকী ‘যামিনী’-র ‘মিউজিক’ ইস্যু প্রকাশিত হচ্ছে।

৫। এ বছর থেকে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের অডিও সিডি Sony Music -এর লেবেলে ভারতে প্রযোজিত ও প্রকাশিত হচ্ছে।

৬। এ বছর ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থী সুস্মিতা দেবনাথ সুচি আমন্ত্রিত হয়ে কলকাতার চৌধুরী মিউজিক ফেস্টিভ্যালে সংগীত পরিবেশন করবেন।

উৎসবের তাৎপর্য

(১) উৎসবের ধারাবাহিক সাফল্য, সুশৃঙ্খল আবহ ও বিশ্বমানের পরিবেশনা দেশে ও বিদেশে দর্শক-শ্রোতার বিপুল সমাদর লাভ করেছে। বিদেশি পত্র-পত্রিকায় ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুষ্ঠানটি প্রশংসিত হয়েছে।

(২) উচ্চাঙ্গসংগীতের নানা গতিপ্রকৃতিকে ধারণ করে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব জনমনে একটা উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করেছে। শাস্ত্রীয়সংগীতের শিল্পী, শিক্ষার্থী, গুরু সকলেই মনে করেন এটি একটি স্বতন্ত্র আয়োজন।

(৩) নবীন-প্রবীণ গায়ক ও বাদকের রুচিশীল পরিবেশনাসহ উচ্চাঙ্গসংগীতের বৈচিত্র্যসন্ধানী নানামুখী পরিবেশনায় ঋদ্ধ হয়েছে এই উৎসব। পরিবেশনার ধরন ও পরিশীলন ধ্রুপদী সংগীত সম্বন্ধে নবীনদের কৌতূহলী করে তুলেছে।

(৪) অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা মনে করেন, শাস্ত্রীয়সংগীতের এতো ভালো শ্রোতা এই উপমহাদেশে আর নেই। প্রতিবছর শ্রোতার সংখ্যা বেড়ে এখন পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবে প্রায় ২ লক্ষ মানুষ উপস্থিত হন।

(৫) প্রতি বছর বাংলাদেশি শিল্পীদের অংশগ্রহণের হার ও পরিবেশনার গুণগত মান বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সাড়ে তিনশ’র বেশি শিল্পী সংগীত ও নৃত্যে তাঁদের মেধা ও পারদর্শিতা প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন। ২০১২ সালে ১০ জন, ২০১৩ সালে ৩০ জন, ২০১৪ সালে ৫০ জন, ২০১৫ সালে ৮৪ জন, ২০১৬ সালে ১৬৫ জন নবীন ও প্রবীণ শিল্পী উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।

(৬) উৎসবের মাধ্যমে গত পাঁচ বছরে দর্শকের সুযোগ হয়েছে সংগীতের শিরোমণি গিরিজা দেবী, আমজাদ আলী খান, বিরজু মহারাজ, বালমুরালী কৃষ্ণ, কিশোরী আমনকার, হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া, শিবকুমার শর্মা, আলী আহমেদ হোসেন, পারভিন সুলতানা, আশিষ খাঁ, অনিন্দ্য চ্যাটার্জি, স্বপন চৌধুরী, রাধা ও রাজা রেড্ডি, শাহিদ পারভেজ খান, উল্লাস কশলকার, রাইস খান, অজয় চক্রবর্তী, এন রাজম, রাশিদ খান, জাকির হোসেন, কুমার বোস, রাজন ও সাজন মিশ্র, মাধবী মুডগাল, প্রভা আত্রে, আলারমেল ভাল্লি, মালবিকা সারুক্কাই, বম্বে জয়শ্রী, এল সুব্রহ্মণ্যন, কড়াইকুডি মানি, শুভা মুডগাল, রনু মজুমদার, সুজাত খান প্রমুখের পরিবেশনা কাছ থেকে দেখা ও শোনার।

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ২০১৭: পরিবেশনা

ষষ্ঠ বর্ষে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের পরিসর আরও বড় করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। শুধু উপমহাদেশের উচ্চাঙ্গসংগীত নয়, এর সঙ্গে যুক্ত করা হয় ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যাল। গ্র্যামি নমিনি (১৯৮১) পদ্মভূষণ ড. এল সুব্রহ্মণ্যন রচিত ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যাল কম্পোজিশন পরিবেশন করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় ৫৬ সদস্যের অর্কেস্ট্রা দলকে।
উৎসবে যোগ দিতে সম্মত হন মেওয়াতি ঘরানার প্রবাদপ্রতিম শিল্পী পণ্ডিত যশরাজ। বিশিষ্ট শিল্পশৈলী ও প্রজ্ঞার জন্য ভারত সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মাননা পদ্মবিভূষণ প্রদান করেছে।

১৯৯৩ সালের গ্র্যামি বিজয়ী পদ্মভূষণ পণ্ডিত বিশ্বমোহন ভট্টকে এবার মোহনবীণা পরিবেশনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম গ্র্যামি বিজয়ী বিদ্যান ভিক্কু বিনায়করাম ভারত সরকারের কাছে পেয়েছেন পদ্মভূষণ খেতাব। কর্ণাটক ধারায় ঘাটম ও মৃদঙ্গম বাদনে পারদর্শী এই শিল্পী তাঁর দলসহ বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবে অংশগ্রহণে সম্মত হন। এছাড়া বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সংগীত পরিবেশন করতে বেহালা শিল্পী ড. মঞ্জুনাথ মাইসুর, নৃত্যশিল্পী অদিতি মঙ্গলদাস, সংগীতশিল্পী পণ্ডিত কৈবল্যকুমার, সেতারশিল্পী পণ্ডিত বুধাদিত্য মুখার্জিসহ আরও বহু গুণী শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রথম থেকে এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী, ওস্তাদ রশিদ খান, পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া, পণ্ডিত উল্লাস কশলকার, ওস্তাদ শাহেদ পারভেজ খান, কৌশিকী চক্রবর্তী প্রমুখকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এবছর অনুষ্ঠানসূচিতে রাখা হয় বাংলাদেশের পাঁচজন উদীয়মান নৃত্যশিল্পী সুদেষ্ণা শ্যামপ্রভা, মেহরাজ হক তুষার, স্নাতা শাহরিন, সুইটি দাস ও অমিত চৌধুরীর বিভিন্ন নৃত্যধারার যুগল পরিবেশনা এবং সরকারি সংগীত মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ধ্রুপদী সংগীত উপস্থাপনা। পরম্পরা সংগীতালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের একক ও দলীয় পরিবেশনাও পরিকল্পনায় স্থান পায়। বাংলাদেশের স্বনামধন্য সেতারশিল্পী ফিরোজ খান এবং প্রখ্যাত বাঁশিশিল্পী গাজী আব্দুল হাকিম উৎসবে একক পরিবেশনা উপস্থাপন করতে সম্মত হন।

বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের মাধ্যমে ধ্রুপদী সংগীতে নবীনদের আগ্রহ ফিরিয়ে আনতে আমরা সচেষ্ট। আজ সংবাদ সম্মেলনে এর কিছু নিদর্শন আপনাদের সামনে তুলে ধরা হবে।

বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের কনিষ্ঠ ছাত্রী ইলহাম ফুলঝুরি খান জৌনপুরি রাগে তাঁর গুরু পণ্ডিত তেজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদারের রচনা সরোদে বাজিয়ে শোনাবেন। পারিবারিক পরিমন্ডলে তিনি সংগীতচর্চার আবহে বড় হয়েছেন। তিনি গুরুর কাছে মাত্র দু’বছর হলো শিখছেন।

সেতারের শিক্ষার্থী মেহরিন আলম, টি.এম. সেলিম রেজা, জ্যোতি ব্যানার্জি, প্রসেনজিৎ মন্ডল, রিংকু চন্দ্র দাস, জাহাঙ্গীর আলম শ্রাবণ এবং মোহাম্মদ কাওসার ইমন রাগে তাঁদের গুরু পণ্ডিত কুশল দাসের রচনা সেতারে বাজিয়ে শোনাবেন। এছাড়া পণ্ডিত উল্লাস কশলকারের কৃতী ছাত্রী সুস্মিতা দেবনাথ সুচি সংক্ষিপ্ত খেয়াল পরিবেশন করবেন। আমরা আশা করি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে নবীন শিল্পীদের যৎকিঞ্চিত অর্জন প্রতীয়মান হবে। শিল্পীদের তবলায় সহযোগিতা করবেন পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষক পণ্ডিত সুরেশ তালওয়ালকারের ছাত্রদ্বয় এম জে ভুবন ও প্রশান্ত ভৌমিক। এছাড়া রতন কুমার দাস তবলায় সংগত করবেন। হারমোনিয়ামে থাকবেন পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকারের ছাত্র টিংকু শীল।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ২০১৭-এর নিবেদক হিসেবে স্কয়ার গ্রুপ এবং আয়োজন সমর্থনকারী হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড আমাদের সঙ্গে আছে। আরও রয়েছে সম্প্রচার সহযোগী মাছরাঙা টেলিভিশন, মেডিক্যাল পার্টনার স্কয়ার হাসপাতাল, ইভেন্ট ব্যবস্থাপক ব্লুজ কমিউনিকেশনস এবং আয়োজন সহযোগী বেঙ্গল ডিজিটাল, বেঙ্গল বই ও বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়। সার্বিক সহযোগিতায় পারফেক্ট হারমনি, সিঙ্গাপুর।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধু

বড় পরিসরের এই উৎসব আয়োজনের জন্য নিরাপত্তা, যাতায়াত সুবিধা এবং মানুষ জমায়েতের জন্য উপযুক্ত জায়গার বিষয়টি সময়মতো মীমাংসা না হওয়ায়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২০১৭ সালের বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। এরই মধ্যে দু’ শতাধিক দেশি-বিদেশি শিল্পী ও কলাকুশলীকে এ-বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে এমন খবর পেয়ে বহু শিল্পী আশাহত হয়েছেন। বিদেশি শিল্পীরা বাংলাদেশের শ্রোতা-দর্শকের সামনে উপস্থিত হতে না পারায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বিগত পাঁচ বছর আপনাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং সরকারের সহযোগিতায় উৎসব আয়োজনের স্বপ্নটি বাস্তব রূপলাভ করে। আমরা মনে করি ২০১২ সালে উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের সংকল্পে যে-যাত্রা সূচিত হয়েছিল তা বহমান থাকবে সংগীতপিপাসু জনমানুষের কল্পনায় ও চিত্তে এবং ভবিষ্যতে তা সার্থকতা লাভ করবে আমাদের তরুণ প্রজন্মের সাঙ্গীতিক বোধ, মেধা ও প্রজ্ঞার মধ্য দিয়ে।
আমাদের বিশ্বাস, শিল্প-সংস্কৃতি চর্চাই মানুষকে নৈরাজ্য থেকে দূরে রাখে। এই পথচলায় আপনারা সঙ্গী হবেন, এমনটাই প্রত্যাশা। আপনাদের সহযোগিতা পেলে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আবারও সফল হবে।

লুভা নাহিদ চৌধুরী
বেঙ্গল ফাউন্ডেশন
www.bengalfoundation.org
www.bengalclassicalmusicfest.com

রেজওয়ানুল কামাল
মিডিয়া ব্যবস্থাপনা
+880 1844050624
rezwanul.kamal@bengalfoundation.org

thumbnail Luva Nahid Choudhury, Director General, Bengal Foundation

thumbnail Abul Khair, Chairman, Bengal Foundation

thumbnail A short performance by Bengal Parampara Sangeetalay students

thumbnail A short performance by Bengal Parampara Sangeetalay students

thumbnail A short performance by Bengal Parampara Sangeetalay students