Menu

Press Release 2016

thumbnail

বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত ও স্কয়ার নিবেদিত

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব বাংলাদেশ ২০১৬

 

উৎসর্গ : সব্যসাচী লেখক

সৈয়দ শামসুল হক

 

সংবাদ সম্মেলন

২৪ অক্টোবর ২০১৬, সোমবার

ওয়েস্টিন হোটেল, ঢাকা

 

৫ম বর্ষ

আগামী ২৪ নভেম্বর থেকে দেশে পঞ্চমবারের মতো আয়োজিত হচ্ছে ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব’। গত চার বছর ধরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান শিল্পী ও দর্শকের অংশগ্রহণের বিচারে এরই মধ্যে এই উপমহাদেশে তথা বিশ্বে সবচেয়ে বড় পরিসরের উচ্চাঙ্গসংগীত আসর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। পাঁচদিনের এই উৎসব এ-বছর উৎসর্গ করা হয়েছে সব্যসাচী লেখক এবং আমাদের সুহৃদ সৈয়দ শামসুল হককে (১৯৩৫-২০১৬)।

এ-বছর নানা অস্থিরতার কারণে এত বড় পরিসরের উৎসব আয়োজন নিয়ে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছিল। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের গুরুত্ব ও মর্যাদা অনুধাবন করে সরকারি উদ্যোগে গত মাসে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আয়োজন করা হয়। সে-সভায় উৎসব আয়োজনের পক্ষে সরকারি বিভিন্ন মহলের আগ্রহ ও অঙ্গীকার আমাদের মুগ্ধ করেছে এবং সাহস জুগিয়েছে। সাধারণ মানুষের উৎসাহ ও সক্রিয় সমর্থনে উদ্বুদ্ধ হয়ে আগামী ২৪ নভেম্বর থেকে পঞ্চমবারের মতো ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব’আয়োজনে আমরা ব্রতী হয়েছি।

আগামী ২৪ থেকে ২৮ নভেম্বর প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এবারো ধ্রুপদী সংগীত ও নৃত্যের প্রধান প্রধান শাখার উল্লেখযোগ্য পরিবেশনা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

 

আমাদের কথা

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরা ও প্রবহমান সাংস্কৃতিক ধারাকে নবীন দৃষ্টিভঙ্গিতে সঞ্জীবিত করা এবং এই ধারার আলোকে চর্চা ও সাধনা অব্যাহত রাখাই বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য।

সাংস্কৃতিক চর্চার নানামুখী কর্মপ্রবাহের মধ্য দিয়ে জনরুচি, জীবন ও মননে মাত্রা সঞ্চার করতে আমরা প্রয়াসী। সংগীত দিয়েই আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের আত্মপ্রকাশ ২০১২ সালে। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবুল খায়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন, একটি বড় পরিসরের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে শাস্ত্রীয়সংগীতের মতো অ-জনপ্রিয় সংগীতকে উপস্থাপন করলে সাধারণ দর্শকের মাঝে তা হয়তো সাড়া জাগিয়ে তুলবে।

ভারতবর্ষে উচ্চাঙ্গসংগীতের ভিত প্রতিষ্ঠায় যাঁদের অন্যতম অবদান রয়েছে এবং পঞ্চাশ-ষাটের দশকে ও তৎপরবর্তীকালে শাস্ত্রীয়সংগীতের বার্তা যাঁরা সারা বিশ্বে পৌঁছে দিয়েছিলেন – আলাউদ্দিন খাঁ, আলী আকবর খাঁ, উদয়শঙ্কর, রবিশঙ্কর, আয়েত আলী খাঁ, বিলায়েৎ খাঁ – পারিবারিক সূত্রে সকলেরই এদশের মাটির সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। ২০১২ সালে আমরা ধারণা করেছিলাম যে, নিয়মিতভাবে উৎসব আয়োজিত হলে তা জনরুচিকে প্রভাবিত করবে এবং উচ্চাঙ্গসংগীতের যে গৌরবময় উত্তরাধিকার আমাদের রয়েছে, তা উজ্জীবিত হবে।

উচ্চাঙ্গসংগীতের সুবিশাল বিস্তৃতি ও তীক্ষ্ণ বোধ আমাদের বিনীত করে, চিত্তকে করে উদ্বেলিত, জাগিয়ে তোলে মানবিক চেতনা ও গভীর মর্মবোধ। মানবিক হওয়ার এই প্রয়াসকে সামনে রেখেই আমরা এ বছর পঞ্চমবারের মতো উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব আয়োজনে ব্রতী হয়েছি।

পাঁচ বছর পর জোর দিয়ে বলা যায় যে, সাধারণ দর্শক-শ্রোতার আগ্রহ বেড়েছে। দর্শকের যথার্থ রসাস্বাদন ও মনোনিবেশের যে ক্ষমতা লক্ষ্য করা গেছে তার ফলে দর্শকসংখ্যা একটি বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে, ২০১২ সালে আমরা ভাবিনি শ্রোতার এমন আশাতীত উপস্থিতি হবে, এই গুরু সংগীত এভাবে মানুষকে টানবে। হয়তো সুস্থ বিনোদনের অভাব, হয়তো নিছক কৌতূহল, হয়তো সংগীত-মনীষীদের চোখে দেখার, সামনাসামনি বসে তাঁদের গান শোনার তাগিদ – এ ধরনের আরো কারণ থাকতে পারে। তবে শাস্ত্রীয়সংগীতের বিশালতাকে অনুধাবন ও গভীরভাবে অনুভব করার একটি আকাক্সক্ষা আমাদের হৃদয়ে দানা বেঁধেছে, একথা অনস্বীকার্য।

 

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব – ফিরে দেখা… 

 

প্রেক্ষাপট

*        ২০১১ সালে আইটিসি সংগীত রিসার্চ অ্যাকাডেমি (এসআরএ)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করি। ওই বছর ফেব্রুয়ারিতে এসআরএ-র পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী ও বিদুষী গিরিজা দেবীকে নিয়ে ঢাকায় ও পণ্ডিত অরুণ ভাদুড়ীকে নিয়ে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

*        ২০১২ সালে প্রথমবার বড় পরিসরে একই মঞ্চে উচ্চাঙ্গসংগীতের বিভিন্ন দিকপালকে নিয়ে চার দিনব্যাপী বেঙ্গল-আইটিসি এসআরএ উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব আয়োজন করা হয়। প্রথমবারের মতো ওয়েবের মাধ্যমে বিনামূল্যে নিবন্ধন প্রথা এই আয়োজনেই চালু করা হয়। উৎসবস্থলে বিশেষ প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে শাস্ত্রীয়সংগীত চর্চার ইতিহাস তুলে ধরা হয়। চারদিনের উৎসবে উপস্থিত ছিলেন ৭০ হাজার দর্শক-শ্রোতা।

গুরুকুল পদ্ধতিতে শিক্ষাদানের লক্ষ্যে বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয় প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশি শিল্পীদের নিয়ে ভারতে বড় পরিসরের অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলা হয়। নিয়মিতভাবে বড় পরিসরে বাৎসরিক সংগীত উৎসব আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

*        ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আইটিসি এসআরএ-র সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশের ৫২ জন শিল্পীকে নিয়ে কলকাতায় প্রথমবারের মতো নয় দিনব্যাপী বাংলা গানের উৎসবের আয়োজন করা হয়।

*        ২০১৩ সালে স্কয়ার গ্রুপ পরিবেশন করে দ্বিতীয় বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সত্ত্বেও সেবার উপস্থিতি এক লক্ষের কাছাকাছি ছিল।

*        ২০১৪ সালে উৎসব আরো একদিন বর্ধিত করা হয়। ব্র্যাক ব্যাংক উদ্যোগকে সমর্থন দান করে। পাঁচ দিনব্যাপী তৃতীয় বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবে ১ লক্ষ ৫০ হাজারের বেশি দর্শক-শ্রোতা যোগ দেন। উৎসবে সংবাদ সংগ্রহের নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। যাত্রা শুরু করে বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়। ব্লুজ কমিউনিকেশনসের সৌজন্যে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ওয়ার্ল্ড মিউজিক এক্সপোতে অংশগ্রহণ করে।

*        ২০১৫ সালে উৎসবের প্রতীক-চিহ্ন/লোগো রি-ব্র্যান্ডিং করা হয়। উৎসব সারারাত চললেও নিরাপত্তার কারণে দর্শকদের উৎসবস্থল ত্যাগ, নিবন্ধন ও উপস্থিতির বিষয়ে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

*        ২০১৬ বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের প্রাক্কালে ঢাকার বাইরে স্থানীয় শিল্পী ও একজন প্রশিক্ষক নিয়ে একটি নিরীক্ষাধর্মী কর্মশালা আয়োজিত হয়। এবার কর্মশালা খুলনায় অনুষ্ঠিত হবে।

এ বছর আগস্টে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত পনেরো দিনব্যাপী সাউথ এশিয়ান মিউজিক রেসিডেন্সিতে গ্যেটে ইনস্টিটিউটের অনুরোধে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন মনোনীত বাংলাদেশের একজন নবীন শিল্পী অংশগ্রহণ করেন।

২২-২৩ নভেম্বর গ্যেটে ইনস্টিটিউট ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে Ômusic as intangible heritageÕ শীর্ষক সভা, যেখানে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা অপরিমাপ্য ঐতিহ্যগত সম্পদ হিসেবে সংগীত, বিশেষত বাংলাদেশের গান নিয়ে আলোচনা করবেন।

এ-বছর থেকে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের লেবেলে ধারণ করা সকল মিউজিক ট্র্যাক ২৫টি দেশে সুবিন্যস্ত অনলাইন সেলস প্ল্যাটফর্ম অরচার্ডে পর্যায়ক্রমে পাওয়া যাবে।

সংগীতামোদী, সাধারণ শ্রোতা ও শিক্ষার্থীদের জন্য শাস্ত্রীয়সংগীত বুঝতে এবং বোঝাতে বাংলা ভাষায় শাস্ত্রীয় যন্ত্রসংগীতের সহজ কিছু মিউজিক অ্যাপ্রিসিয়েশনের লেকচার ও ডেমনস্ট্রেশন সংকলিত করা হয়েছে। উৎসবের সময় এই সংকলন শ্রোতাদের হাতে ডিভিডি আকারে তুলে দেওয়া হবে।

এবার বেঙ্গল ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক ফেস্টিভালের ওয়েবসাইট উন্মোচন করা হচ্ছে। আশা করছি এই স্বতন্ত্র ওয়েবসাইটে রক্ষিত গত চার বছরের তথ্য ও ছবি এবং এ বছরের বিস্তারিত তথ্য গবেষক ও নতুন দর্শকদের আকৃষ্ট করবে।

www.bengalclassicalmusicfest.com

 

*        ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারির শেষভাগে সিলেটে ১০ দিনব্যাপী বাংলা সংস্কৃতি উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

 

উৎসবের তাৎপর্য

(১)      উৎসবের ধারাবাহিক সাফল্য, সুশৃঙ্খল আবহ ও বিশ্বমানের পরিবেশনা বিদেশে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। দেশে ও বিদেশে দর্শক-শ্রোতার বিপুল সমাদর লাভ করেছে। বিদেশি পত্র-পত্রিকায় ও অনলাইন মিডিয়ায় অনুষ্ঠানটি প্রশংসিত হয়েছে। গত দুবছর ধরে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব পরিসর ও মেয়াদ, একই মঞ্চে বিভিন্ন শিল্পীর উপস্থিতি এবং দর্শকসংখ্যা বিচারে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চাঙ্গসংগীত অনুষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত।  

(২)     উৎসবটি ক্রমে একটি বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। এই কয়েক বছরে উৎসবের একটা চরিত্র দাঁড়িয়েছে। উচ্চাঙ্গসংগীতের নানা গতিপ্রকৃতিকে ধারণ করে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব জনমনে একটা উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করেছে। শাস্ত্রীয়সংগীতের শিল্পী, শিক্ষার্থী, গুরু সকলেই মনে করেন এটি একটি স্বতন্ত্র আয়োজন।

(৩)     নবীন-প্রবীণ গায়ক ও বাদকের রুচিশীল পরিবেশনাসহ উচ্চাঙ্গসংগীতের বৈচিত্র্যসন্ধানী নানামুখী পরিবেশনায় ঋদ্ধ হয়েছে এই উৎসব। পরিবেশনার ধরন ও পরিশীলন ধ্রুপদী সংগীত সম্বন্ধে নবীনদের কৌতূহল ও আগ্রহ বাড়িয়ে তুলেছে।

(৪)     শ্রোতাদের মধ্যে তরুণরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। গর্বের বিষয় যে, অংশগ্রহণকারী সব শিল্পী স্বীকার করেছেন, শাস্ত্রীয়সংগীতের এতো ভালো শ্রোতা এই উপমহাদেশে আর নেই। প্রতিবছর শ্রোতার সংখ্যা বেড়ে এখন পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ উপস্থিত হন।

(৫)     প্রতি বছর বাংলাদেশি শিল্পীদের অংশগ্রহণের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের দুই শতাধিক শিল্পী সমঝদার দর্শকের সামনে বড় মঞ্চে, বড় শিল্পীদের পাশাপাশি সংগীত ও নৃত্যে তাঁদের মেধা ও পারদর্শিতা প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন। ২০১২ সালে ১০ জন, ২০১৩ সালে ৩০ জন, ২০১৪ সালে ৫০ জন, ২০১৫ সালে ৮৪ জন এবং এ বছর বাংলাদেশের ১৬৫ জন নবীন ও প্রবীণ শিল্পী উৎসবে অংশগ্রহণ করবেন।

(৬)     উৎসবের মাধ্যমে গত চার বছরে দর্শকের বিরল সুযোগ হয়েছে সংগীতের শিরোমণি গিরিজা দেবী, আমজাদ আলী খান, বিরজু মহারাজ, ড. বালমুরালী কৃষ্ণা, কিশোরী আমানকার, হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া, শিবকুমার শর্মা, আলী আহমেদ হোসেন, পারভিন সুলতানা, স্বপন চৌধুরী, রাধা ও রাজা রেড্ডি, শাহিদ পারভেজ খান, উল্লাস কশলকর, রাইস খান, অজয় চক্রবর্তী, এন সাজম, রাশিদ খান, জাকির হোসেন, কুমার বসু, রাজন ও সাজন মিশ্র, আলারমেল ভাল্লি, মালবিকা সারুক্কাই, বম্বে জয়শ্রী, কড়াইকুডি মানি, শুভা মুডগাল, সুজাত খান প্রমুখের পরিবেশনা কাছ থেকে দেখার ও শোনার।

 

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব বাংলাদেশ ২০১৬

 

আগামী ২৪ থেকে ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবে থাকছে ধ্রুপদী সংগীতের নানা নিদর্শন। উৎসবে যোগ দিতে আসছেন প্রবাদপ্রতিম বিদুষী গিরিজা দেবী। প্রায় সত্তর বছরের সংগীতজীবনে বেনারস ঘরানার এই শিল্পী খেয়াল, ঠুমরি, টপ্পায় তুলে এনেছেন পূরব অঙ্গের অনির্বচনীয় রূপ ও রঙ। অতুলনীয় শিল্পশৈলী ও গভীর সাধনার জন্য ভারত সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান পদ্মবিভূষণ প্রদান করেছে।

সেনিয়া মাইহার ঘরানার প্রতিষ্ঠাতা ও ভারতীয় রাগসংগীতের কিংবদন্তি বাবা আলাউদ্দিন খাঁর জন্ম বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিবপুরে। তাঁর পুত্র বিশ্ববিখ্যাত সরোদিয়া ওস্তাদ আলি আকবর খাঁ। আলাউদ্দিন খাঁর পৌত্র ওস্তাদ আশিষ খাঁ এবার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসছেন। দাদামশাই, বাবা ও পিসিমা অন্নপূর্ণা দেবীর কাছে তালিম নিয়েছেন আশিষ খাঁ। বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের প্রথম দিন পণ্ডিত বিক্রম ঘোষ তাঁকে তবলায় সংগত করবেন।

এবারকার কার্যক্রমের উল্লেখযোগ্য দিক নবীন শিল্পীদের উপস্থিতি ও একাধিক যৌথ পরিবেশনা।

পণ্ডিত জসরাজ যুগলবন্দির একটি বিশেষায়িত রূপ ‘জাসরাঙ্গি’ প্রচলন করেন, যেখানে পুরুষ ও নারী কণ্ঠে একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন স্তরে রাগ পরিবেশন করা হয়। জয়পুর আত্রৌলির বিদুষী অশ্বিনী ভিদে ও মেওয়াতি ঘরানার পণ্ডিত সঞ্জীব অভয়ঙ্কর এবার একই মঞ্চে ‘জাসরাঙ্গি’ পরিবেশন করবেন।

পশ্চিমা ও কর্ণাটকি ঢংয়ে সমান পারদর্শিতার সঙ্গে বেহালা বাজিয়ে থাকেন পদ্মভূষণ ড. এল সুব্রহ্মণ্যন। গ্র্যামি নমিনেশন পাওয়া স্বনামধন্য এই শিল্পী বিশ্বের নামিদামি সব কম্পোজার ও কন্ডাকটরের সঙ্গে বাজিয়েছেন। তিনি এবারের উৎসবে প্রথম দিনের শেষ শিল্পী।

প্রেরণাসঞ্চারী ওডিশি নৃত্যের জন্য খ্যাতি লাভ করেছেন বিদুষী মাধবী মুডগাল। এবার উৎসবে মঞ্চে আসবেন তিনি ও তাঁর শিষ্যা আরুশি মুডগাল।

অন্যান্যবারের মতো এবারো উৎসব মুখর হবে প্রবাদপ্রতিম পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া, পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা ও পুত্র রাহুল শর্মা (Wah Taj! Amabassador), পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী, পণ্ডিত উল্লাস কশলকর, ওস্তাদ রশিদ খান, পণ্ডিত কুশল দাস, পণ্ডিত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার ও পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকারের সংগীতে ও বাদ্যে। আমরা আরো পাবো কিরানা ঘরানার বরেণ্য শিল্পী কোকিলকণ্ঠী পদ্মভূষণ ড. প্রভা আত্রে, র্ফারুকাবাদ ঘরানার স্বনামধন্য তবলিয়া পণ্ডিত অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর পুত্র অনুব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং বিশিষ্ট সেতারিয়া পণ্ডিত সঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যুগলবন্দির নানা স্বাদ পাওয়া যাবে শিল্পী প্রবীণ গোধকিন্ডি ও রাতিশ টাগডের বাঁশি ও বেহালায় এবং খ্যাতিমান পণ্ডিত যোগেশ শামসী ও পণ্ডিত শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের যৌথ তবলা বাদনে। এই উৎসবে আগে কখনো ‘ম্যান্ডোলিন’ উপস্থাপন করা হয়নি। বাঁশি ও ম্যান্ডোলিনের যুগলবন্দি শোনাবেন গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড নমিনি বাঁশিশিল্পী পণ্ডিত রনু মজুমদার ও ম্যান্ডোলিনের বিশিষ্ট রূপকার প্রয়াত ইউ শ্রীনিবাসের ভ্রাতা ইউ রাজেশ। সেতারে রাগসংগীতের স্বতন্ত্র রূপকার নন্দিত শিল্পী পূর্বায়ণ চট্টোপাধ্যায়, কর্ণাটকি সংগীতে পারদর্শী ভগ্নিদ্বয় রঞ্জনী ও গায়ত্রী, প্রতিষ্ঠিত কর্ণাটকি বংশীবাদক শশাঙ্ক সুব্রহ্মণ্যন এবং খেয়ালিয়া আরতী আঙ্কালিকার, জয়তীর্থ মেউন্ডি ও কুমার মারদুর পাঁচদিনের উৎসবে পরিবেশন করবেন বিভিন্ন মেজাজের শাস্ত্রীয়সংগীত।

উৎসবের প্রবীণতম শিল্পী ৮৭ বছর বয়সী বিদুষী গিরিজা দেবী। কনিষ্ঠতম শিল্পী ইসরাত ফুলঝুরি খান। তাঁর বয়স সাত বছর। তিনি পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীদের দলীয় সরোদ পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করবেন। স্বনামধন্য এস্রাজ শিল্পী ওস্তাদ ইয়ার রসুল খাঁর ওরফে ফুলঝুরি খাঁর দৌহিত্রী তিনি। ফুলঝুরি খাঁর জন্ম ১৯১২ সালে কুমিল্লার নবীনগরে। প্রথমে বাবা আলাউদ্দিন খাঁর কাছে তবলা ও পরে  আয়েত আলি খাঁর কাছে এস্রাজে তালিম নেন। মাইহার রাজবাড়ির এক অনুষ্ঠানে আলাউদ্দিন খাঁর সরোদ বাদনের সঙ্গে তিনি অতি চমৎকার তবলা সংগত করলে রাজা তাঁকে ‘ফুলঝুরি’ উপাধি দেন। শান্তিনিকেতনে ছিলেন কিছুদিন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর এস্রাজ বাদন পছন্দ করতেন। ১৯৫১ সালে ঢাকা বেতার কেন্দ্রে যোগদান করেন। ইসরাতের কাকা ইউসুফ খাঁ এদেশের বিশিষ্ট সরোদ বাদক।

 

বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয় – বাঙালি সংস্কৃতির মূলস্তম্ভ বাংলা গান। বাংলা গানকে বাঁচিয়ে রাখলে, তার ভিত শক্ত করতে পারলে উৎসব আয়োজনের মূল লক্ষ্য সাধিত হবে। কণ্ঠশিল্পী ও যন্ত্রশিল্পী শাস্ত্রীয়সংগীতে যথার্থ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হলেই এই ভিত মজবুত হবে।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে শাস্ত্রীয়সংগীতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়’, যার প্রতিশ্রুতি আমরা ২০১২ সালে আপনাদের দিয়েছিলাম। সংগীতালয়ে প্রতিভাবান ছাত্রছাত্রীদের গুরু-শিষ্যমতে বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান করা হয়। নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে খেয়ালে পণ্ডিত উল্লাস কশলকর, তবলায় পণ্ডিত সুরেশ তালওয়ালকার, সরোদে পণ্ডিত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার, সেতারে পণ্ডিত কুশল দাস, ধ্রুপদে পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকরসহ উপদেশক হিসেবে আছেন সরকারি সংগীত মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শামীমা পারভিন, ইউসুফ খান, ওস্তাদ শাহাদাত হোসেন খান, ফিরোজ খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. অসিত রায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজওয়ান আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিয়াংকা গোপ প্রমুখ। খেয়াল, ধ্রুপদ ও তবলা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এই শিক্ষায়তনে গত বছর সেতার ও সরোদ শিক্ষা সংযোজন করা হয়। এ-বছর ২১ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয় থেকে সনদ লাভ করেছেন।

 

উচ্চাঙ্গসংগীতে যে কঠোর মনোনিবেশ প্রয়োজন, তা অস্থির এই যুগে তরুণদের মধ্যে প্রবিষ্ট করা সহজসাধ্য নয়। তবে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদের যে সাংগীতিক বোধ ও মেধা আছে, তা জোর দিয়ে বলা যায়। হয়তোবা চর্চা ও অধ্যবসায়ের কিছুটা ঘাটতি আছে। আমরা আশা করি, সাধনার পথ ধরে কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের নবীন পারফর্মার তৈরি হবে। সংগীতালয় প্রতিষ্ঠা হবার পরপর ২০১৪ সালে উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবে একজন শিক্ষার্থী খেয়াল পরিবেশন করেন। ২০১৫ সালে একজন খেয়াল ও একজন ধ্রুপদ পরিবেশন করেন। সে-বছর আটজন শিক্ষার্থীর মনোরম তবলা পরিবেশনা সকলের নজর কাড়ে। এ-বছর আমরা অত্যন্ত গর্বিত যে, উৎসবের বিভিন্ন দিন দলীয়ভাবে পাঁচজন শিক্ষার্থী তবলা, সাতজন সেতার এবং ১২ জন সরোদ পরিবেশন করবেন। মাত্র দু’বছরের মাথায় শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় এই মান অর্জন, এদেশের ছেলেমেয়েদের প্রতিভা ও শিক্ষকদের অধ্যবসায়ের স্বাক্ষর বহন করে।

 

আজ সংবাদ সম্মেলনে বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের কৃতী শিক্ষার্থী – মেহরিন আলম, আশিষ নারায়ণ সরকার, টি.এম. সেলিম রেজা, নিশীথ দে, শ্যামা দে, জ্যোতি ব্যানার্জি, প্রসেনজিৎ ম-ল, আহমেদ ইমতিয়াজ হুমায়ুন, খন্দকার নাজমুস সাকিব, রিংকু চন্দ্র দাস, জাহাঙ্গীর আলম শ্রাবণ এবং মোহাম্মদ কাওসার আপনাদের সামনে সেতারে একটি সংক্ষিপ্ত পরিবেশনা উপস্থাপন করবেন। তাঁদের তবলায় সহযোগিতা করছেন সুপান্থ মজুমদার ও প্রশান্ত ভৌমিক। সংগীত আয়োজন ও গৎ রচনা করেছেন পরম্পরা সংগীতালয়ের গুরু পণ্ডিত কুশল দাশ।

উৎসবে বাংলাদেশি শিল্পীদের অংশগ্রহণ

 

বাংলাদেশের ১৬৫ জন শিল্পী এবার উৎসবে অংশগ্রহণ করবেন। উৎসবের উদ্বোধনী পর্বে স্বনামধন্য নৃত্যশিক্ষক শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা ও নির্দেশনায় নৃত্যনন্দন দলের প্রায় ষাটজন শিল্পী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূল গান ও ভাঙ্গা গানে মণিপুরী, ভরতনাট্যম, ওডিশি ও কত্থক রীতির রূপায়ণ পরিবেশন করবেন। প্রথিতযশা শিল্পী মুনমুন আহমদ তাঁর দল নিয়ে কত্থক পরিবেশন করবেন উৎসবের চতুর্থ দিন। বিশিষ্ট উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পী প্রিয়াংকা গোপ এককভাবে খেয়াল এবং তাঁরই নির্দেশনায় দলগতভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা শাস্ত্রীয়সংগীত পরিবেশন করবেন শেষ দিন। উৎসবের দ্বিতীয় দিন মোহাম্মদ শোয়েবের নির্দেশনায় শিক্ষার্থীরা দলীয়ভাবে নিরীক্ষামূলক রাগসংগীত উপস্থাপন করবেন। বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন দিনে দলীয়ভাবে সেতার, সরোদ ও তবলা পরিবেশন করবেন।

 

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের পঞ্চম অধিবেশন উদ্বোধন করতে সম্মত হয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত, এমপি। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মঞ্চে আরো  থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান নূর, এমপি, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মি. হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, স্কয়ার টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব অঞ্জন চৌধুরী এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব সেলিম আর এফ হোসেন। সূচনা বক্তব্য রাখবেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের।

 

উৎসব প্রাঙ্গণে প্রবেশ

 

১.       আগামী ২৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে  সোমবার ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরদিন ভোর ৫টা পর্যন্ত ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে পাঁচ দিনব্যাপী বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

২.       প্রতিবারের মতো অনলাইনে নিবন্ধন করে উৎসবে বিনামূল্যে প্রবেশের পাশ সংগ্রহ করতে হবে। নভেম্বর মাসের শুরু থেকে সীমিত সময়ের জন্য অনলাইনে নিবন্ধন চলবে।

৩.      অনুষ্ঠান সবার জন্য উন্মুক্ত।

৪.       যাদের হাতের কাছে ইন্টারনেট সংযোগ নেই তারা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ধানমন্ডি ৭/এ সড়কে অবস্থিত জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যাপিঠ (বাড়ি নং ৬০, সড়ক নং ৭/এ, ধানমন্ডি) এবং এয়ারপোর্ট রোড খিলক্ষেতে অবস্থিত বেঙ্গল সেন্টারে (প্লট ২, সিভিল এভিয়েশন এরিয়া, এয়ারপোর্ট রোড) নিবন্ধন করতে পারবেন।

৫.      অনুষ্ঠানের প্রথম দুদিন পর্যন্ত অফ-সাইট নিবন্ধন চলবে। তৃতীয় দিন থেকে এ সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

৬.      অনুষ্ঠানস্থলে নিবন্ধন করা যাবে না।

৭.       প্রতিদিন রাত ১টায় গেট বন্ধ হয়ে যাবে।

৮.      ভোরে আর্মি স্টেডিয়াম থেকে ফেরার জন্য নির্দিষ্ট রুটে বাস থাকবে।

৯.       সকলের স্বার্থে মাঠে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হবে। এ-বিষয়ে সকলের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য সময় হয়তো একটু বেশি প্রয়োজন হবে। দীর্ঘ অপেক্ষমাণ মানুষের সারি এড়াতে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে মাঠে উপস্থিত হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে।

মাঠে ব্যাগ নিয়ে ঢোকা যাবে না। মাঠে ব্যাগ রাখার কোনো ব্যবস্থা থাকবে না। ঢোকার সময় সব গেটে পূর্ণাঙ্গ সিকিউরিটি চেক হবে। প্রত্যেককে নিজের সঙ্গে কোনো প্রকার সনাক্তকরণ পরিচয়পত্র রাখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। মাঠে পেশাদার ক্যামেরা (নিবন্ধিত ফটো সাংবাদিক ব্যতীত), খাবার, কোনো প্রকার পানীয় বা ধূমপানের সরঞ্জাম নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না।

১০.     স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে গাড়ি পার্কিংয়ের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না।

১১.     আর্মি স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ এবার স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ নতুন করে সংস্কার করেছেন। আশা করি এর ফলে আরো উন্নতমানের সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।

১২.     নীতিমালা অনুযায়ী প্রেস এবং মিডিয়ার জন্য সংবাদ সংগ্রহের সবরকম সুবিধা থাকবে।

১৩.    বয়স্ক বা হাঁটাচলায় যাঁদের অসুবিধা আছে, তাঁদের প্রধান ফটক থেকে হুইলচেয়ারে আনার ব্যবস্থা থাকবে।

১৪.     খবরাখবরের জন্যে দেখুন

www.bengalclassicalmusicfest.com

www.facebook.com/bfmusicfest

www.twitter.com/bfmusicfest

www.instagram.com/bfmusicfest

 

বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব বাংলাদেশ ২০১৬-এর নিবেদক স্কয়ার গ্রুপ। আয়োজন সমর্থন করছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। সম্প্রচার সহযোগী হিসেবে রয়েছে মাছরাঙা টেলিভিশন। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার আইস বিজনেস টাইমস। আতিথেয়তা সহযোগী র‌্যাডিসন হোটেল, ঢাকা। মেডিক্যাল পার্টনার স্কয়ার হাসপাতাল। ইভেন্ট ব্যবস্থাপনায় ব্লুজ কমিউনিকেশনস। সহযোগী হিসেবে রয়েছে বেঙ্গল ডিজিটাল, ম্যাংগো এবং বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়। সার্বিক সহযোগিতায় পারফেক্ট হারমনি, সিঙ্গাপুর।

 

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধু

আমাদের বিশ্বাস, শিল্প-সংস্কৃতি চর্চাই মানুষকে নৈরাজ্য থেকে দূরে রাখে। এই পথচলায় আপনারা সঙ্গী হবেন, এমনটাই প্রত্যাশা। আপনাদের সহযোগিতা পেলে এই উদ্যোগ আবারো সফল হবে।

 

লুভা নাহিদ চৌধুরী

বেঙ্গল ফাউন্ডেশন

www.bengalfoundation.org

www.bengalclassicalmusicfest.com

 

মিডিয়া ব্যবস্থাপনা

শর্মিষ্ঠা রহমান ০১৮৪৪১৫১৫৬২

sharmistha.rahman@bengalfoundation.org

 

তৌহিদুর রাশিদ ০১৮৪৪০৫০৬২৮

tawhidur.rashid@icebusinesstimes.net

 

সারওয়ার জাহান চৌধুরী ০১৮৪৪০৫০৫৮৫

sarwar.jahan.chy@bengalfoundation.org

thumbnail A short performance by Bengal Parampara Sangeetalay students

thumbnail From left to right: Zara Mahbub, Head of Communication, BRAC Bank; Abul Khair, Chairman, Bengal Foundation; Anjan Chowdhury, MD and CEO, Square Toiletries Ltd and Maasranga TV; Dr. Abdul Momen, Advisor, Bengal Foundation; Luva Nahid Choudhury, Director General, Bengal Foundation

thumbnail From left to right: Zara Mahbub, Head of Communication, BRAC Bank; Abul Khair, Chairman, Bengal Foundation; Anjan Chowdhury, MD and CEO, Square Toiletries Ltd and Maasranga TV; Dr. Abdul Momen, Advisor, Bengal Foundation; Luva Nahid Choudhury, Director General, Bengal Foundation

thumbnail From left to right: Zara Mahbub, Head of Communication, BRAC Bank; Abul Khair, Chairman, Bengal Foundation; Anjan Chowdhury, MD and CEO, Square Toiletries Ltd and Maasranga TV; Dr. Abdul Momen, Advisor, Bengal Foundation; Luva Nahid Choudhury, Director General, Bengal Foundation

thumbnail From left to right: Dr. Ahrar Ahmad, Director General, Gyantapas Abdur Razzaq Foundation; Zeenat Chowdhury, Managing Director, Bengal Express Ltd; Zara Mahbub, Head of Communication, BRAC Bank Ltd; Abul Khair, Chairman, Bengal Foundation; Anjan Chowdhury, MD and CEO, Square Toiletries Ltd and Maasranga TV; Dr. Abdul Momen, Advisor, Bengal Foundation; Luva Nahid Choudhury, Director General, Bengal Foundation; Maj Gen Abdur Rashid (Retd), Security and Strategy Advisor, Bengal Classical Music Festival 2016