Menu

আজকের তরুণরা আগামী দিনের ঐতিহ্যের ধারক

thumbnail

লুভা নাহিদ চৌধুরী। সঙ্গীতশিল্পী ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক। আজ থেকে শুরু হওয়া ৫ দিনব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক শাস্ত্রীয় সঙ্গীত উৎসব-২০১৬’-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উৎসবের পরিকল্পনা, পরিবেশনা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি-
এবারের উৎসবের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা কেমন?

প্রস্তুতি আগের মতোই আছে। কিন্তু একেক বছর উৎসবের একক রকম চরিত্র দাঁড় হয়ে যায়। গত বছর কর্নাটকি ধারার পরিবেশনা বেশি ছিল, এবার তরুণ শিল্পীদের পরিবেশনা বেশি। অবশ্য শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে তরুণ বলতে অনেকে পঞ্চাশ বা ষাট বছর বোঝেন। কিন্তু আমরা চেয়েছি, এ ধারণা ভেঙে তরুণদের যে প্রচেষ্টা তা সবার সামনে নিয়ে আসবে। কারণ আজকের তরুণরাই আগামী দিনের ঐতিহ্যের ধারক। এর বাইরে ছায়ানটের প্রবীণ তবলা শিক্ষক মদন গোপাল দাস এবং রাজশাহীর প্রবীণ নৃত্যশিল্পী বজলুর রহমান বাদলকে সম্পূরক বৃত্তি প্রদান করছি। তাছাড়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনী থাকছে।

উৎসবে শিল্পী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়েছেন?

কিংবদন্তি শিল্পী যারা, তাদের ক্ষেত্রে আলাদা বিবেচনা ছিল না; কিন্তু দেশের শিল্পীদের প্রাধান্য দিলেও বিচার-বিবেচনা করতে হয়েছে। দেশের প্রায় ১৬৫ শিল্পী উৎসবে অংশ নিচ্ছেন। ২০১২ সালে যে কথা বলে শুরু করেছিলাম, এবার তা অনেকটাই সত্য হচ্ছে। আমরা চেয়েছিলাম, দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণ যেন বৃদ্ধি পায়। তাই বলে মানের দিক থেকে ছাড় দিয়েছি এমন নয়।

নিরাপত্তা বিষয়ে এবার কোনো পরিবর্তন আছে?

দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। এ জন্য আমাদের কাজও বেড়ে গেছে। যেমন অতিথি কারা থাকছেন তাদের বৃত্তান্ত প্রশাসনকে জানানো, দর্শকের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।

উৎসব ছাড়া বাংলার এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে কী করা উচিত বলে মনে করেন?

প্রথমত নিজের দেশ ও সংস্কৃতি কী, তা বুঝতে হবে। আমরা অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক যে বাংলাদেশ কল্পনা করি, শিল্প-সাহিত্য আর সংস্কৃতি ছাড়া সে দেশ সম্ভব নয়। কিন্তু শিল্পীর প্ল্যাটফর্ম দরকার। রাষ্ট্রীয় নীতিমালা দরকার। সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশনের দায়িত্ব নেওয়া দরকার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম, এরকম আরও চারটি উৎসব বছরব্যাপী আয়োজনের জন্য। কারণ শিল্পীর সামনে একটা মানদণ্ড থাকা উচিত। কিন্তু তারা রাজি হয়নি।

আপনার সঙ্গীতচর্চা কেমন চলছে?

সঙ্গীতচর্চাটা বরাবরই নিজের মতো করে আসছি। এখনও রোজ ভোরে রেওয়াজ করার চেষ্টা করি। তারপর নিজের কাজ আর ব্যস্ততা। এটি নিয়ে থাকতেও ভালো লাগে।

 

View Full Article