Menu

উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসবে আজ রাতের তারকারা

thumbnail

আজ ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব-২০১৬’-এর শেষ দিন। আজকের পরিবেশনা শুরু হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীতবিভাগের দলীয় কণ্ঠসঙ্গীত দিয়ে, তার পর থাকছে বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের শিক্ষার্র্থীদের সেতারের দলীয় পরিবেশনা। এরপর মঞ্চে আসবেন পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা। তিনি সন্তুর বাজিয়ে শোনাবেন। এ ছাড়া অংশ নেবেন কুমার মাদুর, কুশল দাস, আরতি আঙ্কালিকার। সর্বশেষ পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এই মহাযজ্ঞের।

হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া

বাঁশির জাদুকর পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া। পনেরো বছর বয়স পর্যন্ত বেনারসের পণ্ডিত রাজা রামের কাছে কণ্ঠসঙ্গীতে তালিম নেন। পরে পণ্ডিত ভোলানাথের বাঁশি শুনে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, বাঁশি বাদন শিখবেন। পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া সবার শ্রদ্ধাভাজন, ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ। পণ্ডিত হরিপ্রসাদ বর্তমানে রটারড্যাম মিউজিক কনজারভেটরির ওয়ার্ল্ড মিউজিক বিভাগের আর্টিস্টিক ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োজিত আছেন।

শিবকুমার শর্মা

সঙ্গীত জগতে সন্তুর শব্দটির সঙ্গে পণ্ডিত শিবকুমার শর্মার নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। নানা বাধা উপেক্ষা করে বাবার অনুপ্রেরণায় কাশ্মীরি লোকসঙ্গীতে ব্যবহৃত সন্তুরকে মার্গসঙ্গীতের মঞ্চে উপস্থাপন করেন তিনি। একনিষ্ঠ অধ্যবসায়, ক্লান্তিহীন গবেষণা ও পুনঃপুনঃ বিনির্মাণের মাধ্যমে সন্তুর বাদনে তিনি নতুন মাত্রা সংযোজন করেন এবং তা তাকে এনে দেয় অভাবনীয় সাফল্য। জীবন্ত কিংবদন্তি পণ্ডিত শিবকুমার শর্মার অর্জনের তালিকা দীর্ঘ।

মোহাম্মদ জাকির হোসেন

মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাংলাদেশের কৃতী তবলাশিল্পী। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি পারদর্শিতার সঙ্গে তবলা পরিবেশন করেছেন। বর্তমানে জাকির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগ, ওয়াহিদ সঙ্গীত একাডেমি ও ছায়ানটে শিক্ষকতা করছেন।

স্বরূপ হোসেন

স্বরূপ হোসেন বাংলাদেশের একজন প্রতিষ্ঠিত তবলাশিল্পী। তার হাতেখড়ি বাবা বিশিষ্ট উচ্চাঙ্গসঙ্গীতশিল্পী ওস্তাদ রবিউল হোসেনের কাছে। বর্তমানে স্বরূপ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের একজন শিক্ষক।

কুমার মাদুর

কুমার মাদুর ধারাওয়াড় গায়নরীতির একজন কুশলী কণ্ঠশিল্পী। কুমারের হাতেখড়ি তার পিতা কিরানা ও গোয়ালিয়র ঘরানার বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী পণ্ডিত সোমনাথ মাদুরের কাছে। ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তিনি সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন। বর্তমানে তিনি আইটিসি সঙ্গীত রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জুনিয়র গুরু হিসেবে নিয়োজিত আছেন।

কুশল দাস

কুশল দাস ভারতের একজন বিশিষ্ট সেতার ও সুরবাহার শিল্পী। কলকাতার এক সাঙ্গীতিক পরিবারে তার জন্ম। পিতামহ বিমলচন্দ্র দাস এস্রাজ বাদনে এবং পিতা শৈলেন দাস ও পিতৃব্য শান্তনু দাস সেতার বাদনে সুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণর্ মঞ্চে বাদ্য পরিবেশন করেছেন কুশল দাস। ঢাকায় বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের তিনি অন্যতম গুরু।

আরতি আঙ্কালিকার

আরতি আঙ্কালিকার ভারতের একজন কণ্ঠশিল্পী। তিনি আগ্রা গোয়ালিয়র ঘরানার পণ্ডিত বসন্তরাও কুলকার্নি এবং জয়পুর আত্রৌলি ঘরানার কিশোরী আমানকারের কাছে সঙ্গীতে তালিম নেন। সুকণ্ঠী এই গায়িকার তাল ও সুরের ওপর চমৎকার দখল তার পরিবেশনাকে করে তোলে মোহনীয়। আরতি ১৯৮৩ ও ১৯৮৪ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিও প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। প্রাপ্ত স্বীকৃতির মধ্যে মেয়র পদক, পণ্ডিত কুমার গান্ধর্ব সম্মান ও পণ্ডিত যশরাজ পদক অন্যতম। ‘সংহিতা’ ছায়াছবিতে কণ্ঠ দিয়ে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছেন। ভারতে ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে তিনি সুনাম অর্জন করেছেন।

বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ

বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ নিশিত দে, সাম্মো দে, আশিস নারায়ণ সরকার, প্রসেনজিৎ মণ্ডল, আহম্মেদ ইমতিয়াজ হুমায়ুন, টিএম সেলিম রেজা, খন্দকার নজমুস সাকিব, রিংকু চন্দ্র দাস, মেহরিন আলম, জ্যাতি ব্যানার্জি, জাহাঙ্গীর আলম শ্রাবণ, মোহাম্মদ কাওছার।

 

View Full Article