Menu

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ২০১৬ শুদ্ধ হলো হৃদয়!

শেষ হলো বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব। পঞ্চম এ আয়োজনের পাঁচটি রাত কেমন কাটল শ্রোতাদের? বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া তাঁদের প্রতিক্রিয়াগুলো পর্যবেক্ষণ আকারে তুলে ধরা হলো।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মনে হচ্ছিল, কোথায় যাব! গত পাঁচটি দিন সন্ধ্যা নামলেই তো ছুটতাম বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে। উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব শেষ হওয়ার পরদিন হয়তো অনেকের এমনটিই মনে হচ্ছিল। টানা পাঁচ রাত কণ্ঠ ও যন্ত্রসংগীতে বুঁদ হয়ে থেকেছেন বহু শ্রোতা। দিনে কর্মক্ষেত্র, পরিবারকে কিছুটা সময় দেওয়ার পর বন্ধু ও পরিবার নিয়ে ছুটে গেছেন শুদ্ধসংগীতে পরিশুদ্ধ হতে। হৃদয় কতটা শুদ্ধ হলো তাঁদের? ফেসবুক, টুইটার ও ব্লগে এ নিয়ে তাঁরা জানিয়েছেন নানা প্রতিক্রিয়া। উৎসব প্রাঙ্গণ, আসা-যাওয়ার পথে যানবাহনে, খাবারের জন্য দাঁড়ানো সারি থেকেও শোনা গেছে নানা কথা। কিছু কথা ও পর্যবেক্ষণ জড়ো করা হলো, চলুন সেসব দেখে নিই এক পলকে।

প্রীত করেছে যাঁদের কণ্ঠ ও যন্ত্রবাদন
মাঠে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতিক্রিয়া থেকে বেশ কজন শিল্পীর একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে, বাঁশির জন্য প্রবীণ গোডখিন্ডি, রনু মজুমদার ও শশাঙ্ক সুব্রামানিয়াম; খেয়ালের জন্য গিরিজা দেবী, প্রভা আত্রে, অজয় চক্রবর্তী, উলহাস কাশালকার, প্রিয়াঙ্কা গোপ, কুমার মারদুর ও জয়তীর্থ মেউন্ডি; ধ্রুপদে উদয় ভাওয়ালকার, কর্ণাটকসংগীতে রঞ্জনী ও গায়ত্রী এবং যশরঙ্গি গেয়ে প্রশংসিত হয়েছেন অশ্বিনী ভিড়ে দেশপাণ্ডে ও সঞ্জীব অভ্যাঙ্কর। সেতারে কুশল দাস, সরোদে আশিস খাঁ, তেজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদার ও বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীরা, সন্তুরে শিবকুমার শর্মা ও রাহুল শর্মা। বেহালায় লক্ষ্মীনারায়ণ সুব্রামানিয়াম, পূর্বায়ণ চট্টোপাধ্যায় ও সঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেতারবাদন ভালো লেগেছে তাঁদের। তবলার জন্য অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, নীলেশ রণদেব ও বিক্রম ঘোষও কুড়িয়েছেন করতালি। তবে উৎসবের শেষ রাতের দর্শক উপস্থিতি দেখে মনে হয়েছে, পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার বাঁশি শোনার জন্যই বুঝি এ উৎসব।

মোহনীয় নৃত্যনন্দিনীরা
বর্ণিল কোরিওগ্রাফি ও চমৎকার উপস্থাপনার জন্য উৎসবে প্রায় সব নৃত্যই ভালো লেগেছে দর্শকদের। বিদুষী মাধবী মুদগাল ও আরুশি মুদগালের যুগল নৃত্য, বিশেষ করে ‘হেমন্তে কোন্ বসন্তেরই বাণী’ গানে আরুশির একক নৃত্য ছিল অসাধারণ। এ ছাড়া শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল নৃত্যনন্দন ও মুনমুন আহমেদের দল রেওয়াজ আনন্দ দিয়েছে।

কঠোরতর নিরাপত্তা বলয়
বাইরে থেকে আর্মি স্টেডিয়ামের ভেতরে যাতে কিছু ছুড়ে ফেলা না যায়, সে জন্য এবার জাল দিয়ে ঘেরা ছিল ওপরটা। ভেন্যু থেকে বারবার প্রবেশ ও বের হওয়াতে ছিল নিষেধাজ্ঞা। প্রবেশপথে দুই স্তরের তল্লাশি, ব্যাগবিহীন, পার্কিংহীন প্রাঙ্গণ—সব মিলিয়ে নিরাপত্তাটা বেশ কড়া ছিল এবার। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষী এইজেস ছিল দারুণ সক্রিয়।

অভিজাত ব্যবস্থাপনা
উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ব্যবস্থাপনার জন্য ব্লুজ কমিউনিকেশনকে বাড়তি ধন্যবাদ না দিয়ে পারবেন না উৎসবে যোগ দেওয়া শিল্পী বা দর্শকেরা। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, বসার ব্যবস্থা, দৃষ্টিনন্দন ফুডকোর্ট থেকে শুরু করে চমৎকার আলোক ও শব্দযন্ত্র—সবখানে রুচি ও আভিজাত্যের যে ছোঁয়া তা ঢাকাবাসীর জন্য নতুন। নিজেদের আয়োজন সামর্থ্য নিয়ে ব্লুজ কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরহাদুল ইসলাম বলেছেন, এরই মধ্যে বেশ কিছু উৎসব আয়োজন দেখেছেন ঢাকাবাসী। পার্থক্যটা তাঁরাই ভালো বলতে ও বুঝতে পারবেন। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, পরের উৎসবে শৌচাগার আরও বাড়ানো হবে। নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও খানিকটা স্বাভাবিক হলে এবারকার অসুবিধাগুলো আর পোহাতে হবে না সংগীতপ্রেমীদের।

বিগত দিনগুলোতে যাদের পরিবেশনা ভালো লেগেছিল, তেমন অনেককে এবারের তালিকায় পাননি দর্শকেরা। খোঁজ নিতে চেষ্টা করেছেন, সংবাদকর্মী, আয়োজক ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে। জানতে চেয়েছেন, কৌশিকী চক্রবর্তী, গুরু করাইকুড়ি মানি ও ওস্তাদ জাকির হোসেন আসছেন কি না। খুঁজবেন না-ইবা কেন। গত বছর জাকির হোসেনের পরিবেশনার পরদিন বলিউড অভিনেত্রী শাবানা আজমি টুইট করে লিখেছিলেন, ‘জাকির হোসেন, শুনেছি গত রাতে ঢাকায় বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবে ৫৬ হাজার মানুষকে আপনি মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিলেন। অসাধারণ উৎসব, মিস করেছি।’

সহযোগীদের জন্যও সাধুবাদ
উৎসবের আয়োজক প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের বারবার ধন্যবাদ জানিয়েছেন সহযোগীদের। স্কয়ার গ্রুপ, ব্র্যাক ব্যাংক, আইস বিজনেস টাইমস, র্যা ডিসন হোটেল, বেঙ্গল ডিজিটাল, ম্যাংগো, বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয় ও পারফেক্ট হারমনি প্রোডাকশনস সিঙ্গাপুরের সহযোগিতা ছাড়া কি এ উৎসব করা যেত?

প্রথম আলোকে সময় দিয়েছেন যাঁরা
এ উৎসব নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপ হয় বিদুষী গিরিজা দেবী, লক্ষ্মীনারায়ণ সুব্রামানিয়াম, অজয় চক্রবর্তী, আশিস খাঁ, রনু মজুমদার, পূর্বায়ণ চট্টোপাধ্যায়সহ বেশ কয়েকজন শিল্পীর। উৎসবে যোগ দিতে পেরে নিজেদের তৃপ্তির কথা জানান প্রত্যেকেই। বারবার আসতে চেয়েছেন, বাজাতে চেয়েছেন এই মুগ্ধ শ্রোতাদের জন্য। প্রভা আত্রে বললেন, ‘শাস্ত্রীয় সংগীতের সুধা আস্বাদ করতে শ্রোতাদের কান তৈরি করতে হবে। একই কথা নতুন শিক্ষার্থীদের জন্যও।’

View Full Article