Menu

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সংগীত উৎ​সব ২০১৬ রবীন্দ্রনাথের গানে ওডিশি নৃত্য

মুগ্ধ চোখে দর্শক ওডিশি নাচই দেখছিলেন। হেমন্তের এই রাতে হঠাৎ করে মঞ্চে এলেন রবীন্দ্রনাথ! তাঁর হৈমন্তী গান ধরলেন বাংলাদেশের শিল্পী সমরজিৎ রায়, ‘হেমন্তে কোন্ বসন্তেরই বাণী’। বিদুষী মাধবী মুদগালের চমৎকার কোরিওগ্রাফিতে আরুশি মুদগাল উৎসবে ছড়িয়ে দিলেন বসন্তের আমেজ।

 

thumbnail

রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে পঞ্চমবারের মতো আয়োজিত হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব। দ্বিতীয় রাতের প্রথম পরিবেশনা ছিল বিদুষী মাধবী ও তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী আরুশি মুদগালের। তাঁরা পাঁচটি নৃত্য পরিবেশন করেন। প্রথমে ‘নটরাজ’ নাচে তিনি করেন শিববন্দনা। সাহানা রাগে ‘আহ্লাদ’ পরিবেশন করেন আরুশি। শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার সম্পর্ক নিয়ে লেখা কবি জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যের একটি অংশ ‘অষ্টপদী’ পরিবেশন করেন মাধবী। সবশেষে ‘ভৈরবী-পল্লবী’ দিয়ে মাধবী ও আরুশি তাঁদের চমৎকার পরিবেশনার ইতি টানেন।
পরের পরিবেশনা বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীদের। চিন্ময় ভৌমিক, ফাহমিদা নাজনীন, প্রশান্ত ভৌমিক, এম জে জে ভুবন, পঞ্চম সান্যাল, সুপান্থ মজুমদার ও নুসরাত-ই-জাহান দীর্ঘদিন ধরে তবলা শিখছেন পণ্ডিত সুরেশ তালওয়ালকারের তত্ত্বাবধানে। এবারের উৎসবের তারই একঝলক দেখা গেল। পরিবেশনা শুনে স্বয়ং গুরু এসে বললেন, ‘এদের ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল। এভাবে সাধনা করে গেলে ওরা অনেক দূর যাবে।’

এরপর মঞ্চে আসেন বাংলাদেশের শিল্পী প্রিয়াঙ্কা গোপ। পণ্ডিত অরুণ ভাদুড়ির এই শিষ্য দেশে-বিদেশে সংগীত পরিবেশন করে পেয়েছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। গতকাল তিনি রাগ বাগেশ্রীতে খেয়াল ও কৌশিকধ্বনিতে ঠুমরি পরিবেশন করেন।

সন্তুরশিল্পী রাহুল শর্মা বাংলাদেশের দর্শকদের প্রশংসা করলেন। তিনি তাঁর পরিবেশনা শুরু করলেন রাগ গাবতী দিয়ে। সঙ্গে তবলায় ছিলেন সত্যজিৎ তালওয়ালকার।

এ প্রতিবেদন লেখার সময় মোহাম্মদ শোয়েব ও তাঁর দল কণ্ঠসংগীত শোনাতে মঞ্চে আসে। তালিকায় আরও আছে পূর্বায়ন চট্টোপাধ্যায়ের সেতার ও উলহাস কাশালকারের খেয়াল। শেষটি দ্বৈত পরিবেশনা—বাঁশিতে পণ্ডিত রনু মজুমদার ও ম্যান্ডোলিনে উপালাপ্পু রাজেশ।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত ও স্কয়ার গ্রুপ নিবেদিত এ আয়োজনে সঙ্গে আছে ব্র্যাক ব্যাংক।

প্রথম দিন (গত বৃহস্পতিবার) মাঝরাতের পর সরোদ নিয়ে মঞ্চে ওঠেন ওস্তাদ আশিস খাঁ। দাদা সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ মাত্র পাঁচ বছর বয়সে আশিসের হাতে তুলে দিয়েছিলেন সরোদ। উৎসবে তিনি পরিবেশন করেন রাগ দরবারি কানাড়া, চন্দ্রবদন ও মিশ্র ভৈরবী। খ্যাতিমান তবলাশিল্পী পণ্ডিত বিক্রম ঘোষও সমানতালে দেখিয়েছেন তাঁর হাতের জাদু।

এরপর উৎসবে প্রথমবারের মতো পণ্ডিত যশরাজ উদ্ভাবিত শাস্ত্রীয় সংগীতের অনন্য রূপ ‘যশরঙ্গি’ পরিবেশন করেন বিদুষী অশ্বিনী ভিড়ে দেশপাণ্ডে ও পণ্ডিত সঞ্জয় অভ্যাঙ্কর। যশরঙ্গিতে একজন নারী ও একজন পুরুষ শিল্পী দুটি ভিন্ন স্কেলে দুটি ভিন্ন রাগ একই সঙ্গে পরিবেশন করেন। বিদুষী-সঞ্জয় পরপর পরিবেশন করেন রাগ ললিত ও পুরিয়া ধানেশ্রী এবং রাগ দুর্গা ও ভূপালি।

রাতের শেষ প্রহরে কর্ণাটকি সংগীতজ্ঞ ড. লক্ষ্মীনারায়ণ সুব্রামানিয়াম আদি তালে বেহালায় পরিবেশন করেন কৃতি, মোহনাম ও নিজের সৃষ্টি ‘ছন্দপ্রিয়া’।

যা আছে আজ রাতে: আজ সন্ধ্যা সাতটায় উৎসব শুরু হবে বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীদের দলীয় সরোদ পরিবেশনা দিয়ে। এরপর থাকবে শশাঙ্ক সুব্রামানিয়ামের বাঁশি। খেয়াল গাইবেন ড. প্রভা আত্রে। পণ্ডিত অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় থাকবেন তবলা পরিবেশনে। ধ্রুপদ গাইবেন পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকার। সেতারে থাকবেন পণ্ডিত সঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। সবশেষে খেয়াল গাইবেন ওস্তাদ রশিদ খাঁ।

View Full Article