Menu

শুরু হলো উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব মুগ্ধতা ছড়াল শুদ্ধ সংগীত

শুদ্ধ সংগীতের তাল, লয় ও রাগ-রাগিণীর সুরের ইন্দ্রজালের মায়াবী পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পঞ্চমবারের মতো শুরু হলো পাঁচ দিনের উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় প্রথমেই নাচের দল নৃত্যনন্দনের শিল্পীদের সম্মেলক নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শাস্ত্রীয় সংগীতের এ আসর।

নৃত্যশিক্ষক শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা ও নির্দেশনায় দলীয় নৃত্য ‘রবি করোজ্জ্বল’ নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রথম দিনের অনুষ্ঠান। নৃত্যনন্দন দলের প্রায় ৬০ শিল্পী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূল গান ও ভাঙা গানে মণিপুরী, ভরতনাট্যম, ওডিশি ও কত্থক রীতির রূপায়ণ পরিবেশনায় অংশ নেন। এ পর্বে রবীন্দ্র-জীবনচেতনা ও বাঙালিত্বের স্বরূপ-সাধনা উৎসারিত বাঙালির নৃত্যরূপ অনুধাবন ও চর্চায় ব্রতী ‘নৃত্যনন্দন’ ফুটে ওঠে। নৃত্যশৈলীর নানা ধারা রবীন্দ্রনাথে এসে মিলেছিল যে মোহনায়, তার উৎস ও পরম্পরা দিয়ে গাঁথা হয়েছে উদ্বোধনী সন্ধ্যার এ পরিবেশনায়। প্রথম দিনে দ্বিতীয় পরিবেশনায় প্রবীণ গোডখি-ির বাঁশির সঙ্গে বেহালায় ইন্দ্রজাল ছড়ান ভারতের মিউজিশিয়ানস ফেডারেশনের সভাপতি রাতিশ তাগড়। তাদের সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করেন রামদাস পালসুল।

এর পর উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

এ ছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার হর্য বর্ধন শ্রিংলা, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী এবং ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সেলিম আরএফ হোসেন। এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের।

এর পর আবার শুরু হয় বিদুষী গিরিজা দেবীর খেয়াল পরিবেশনা, ড. এল সুব্রক্ষ্ম্যণনের বেহালা, ওস্তাদ আশিষ খানের সরোদ, প্রবীণ গোডখি-ির বাঁশি আর রাতিশ তাগড়ের বেহালার সুর শাস্ত্রীয় এ আসরে সুরের বৃষ্টি ঝরিয়ে দেয়।

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার পর খেয়াল পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে উঠেন বিদুষী গিরিজা দেবী। তার সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করেন গোপাল মিশ্র। এর পর সরোদ পরিবেশনা নিয়ে আসেন ওস্তাদ আশিষ খান। তবলায় তার সঙ্গে ছিলেন প-িত বিক্রম ঘোষ।

গভীর রাতে শীতল আবহ মেখে খেয়াল পরিবেশনায় যুগলবন্দি হন বিদুষী অশ্বিনী ভিদে দেশপা-ে ও প-িত সঞ্জীব অভয়ংকর। তাদের পরিবেশনাটি ছিল ‘জাসরাঙ্গি’। এ সময় তবলায় তাদের সহযোগিতা করেন আজিঙ্কা যোশি ও রোহিত মজুমদার।

প্রথম দিনের সবশেষ বেহালা পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে উঠেন ড. এল সুব্রহ্ম্যণন। তার সঙ্গে তবলায় ছিলেন প-িত তন্ময় বোস। শাস্ত্রীয় সংগীতের শুদ্ধতায় মুগ্ধ হওয়ার প্রত্যয়ে সেই সাঁঝবেলা থেকে শুরু হয়ে কাকডাকা ভোর পর্যন্ত চলে সুরের মায়াবী খেলা। পুরো অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করে মাছরাঙা টেলিভিশন। উৎসবটি ইভেন্ট ব্যবস্থাপনায় আছে ব্লুজ কমিউনিকেশনস।

View Full Article