Menu

সুরের জাদুতে উৎসব শুরু

thumbnail

পৌষের সন্ধ্যা। মৃদুমন্দ হিমেল হাওয়া। রাত যত বাড়ছিল, ততই জেঁকে বসছিল শীত। কিন্তু শীত-কুয়াশাভেদী উষ্ণতা ছড়িয়ে দিচ্ছিল সুরের ঢেউ, পার্বণঋদ্ধ এই পৌষে। বেহালা, সরোদ, সেতার, বাঁশির মোহিনী সুরের সঙ্গে ছিল একঝাঁক শিল্পীর অর্কেস্ট্রার জাদু। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছিল কণ্ঠমাধুর্যও। গতকাল সন্ধ্যায় শুরু হওয়া মাতালিয়া সুর আর বাদ্যের জাদু ভোর পর্যন্ত জনে-জনে মনে-মনে ছুঁয়ে দিয়েছিল সোনারকাঠি, রুপারকাঠি। আর তাতেই বুঁদ হয়ে ছিলেন উপস্থিত ¯্রােতাকূল। গতকালের জাদুকররা এসেছেন ভারত ও কাজাখস্তান থেকে। বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের প্রথম দিন ছিল এ দিন। রাজধানীর আবাহনী মাঠে উপস্থিত শ্রোতারা তন্ময় হয়ে উপভোগ করলেন উদ্বোধনী দিনে সুরের ক্যারিশমা।
এই ক্যারিশমাকে সঙ্গী করে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ উৎসব চলবে পাঁচ রজনী। ড. আনিসুজ্জামানের প্রতি উৎসর্গীকৃত এবারের উৎসবের প্রতিপাদ্যÑ সংগীত জাগায় প্রাণ।
শ্রোতার হৃদয়ে ঝংকার বইয়ে দেওয়া এ উৎসব গত পাঁচ বছর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতো। এবার ষষ্ঠ বছরে এসে এটি স্থানান্তরিত হয়েছে ধানম-ির আবাহনী মাঠে এবং এবারই প্রথম প্রাচ্যের সঙ্গে প্রতীচ্যের সুরের মেইলবন্ধন ঘটছে এ উৎসবে। বিপুলসংখ্যক শ্রোতা-দর্শকের আগমনে প্রথম দিনেই উৎসবজুড়ে ছিল জনমুখরতা। অর্কেস্ট্রার বাদন, বেহালার সুরধ্বনি, সেতার-সরোদের স্নিগ্ধতার সঙ্গে খেয়ালের মায়াবি নিনাদে শ্রোতার অন্তর পূর্ণ হলো প্রশান্তির পরশে। সেই সুবাদে যান্ত্রিক শহর ঢাকায় সুরের স্রোতধারায় বইল প্রাণের স্পন্দন। উৎসবের প্রথম পরিবেশনায় মঞ্চে আসেন বিশ্বখ্যাত ভারতীয় বেহালাবাদক ড. এল সুব্রামানিয়াম। বেহালায় রাগ আভোগী পরিবেশন করেন। এ সময় তার সঙ্গে মৃদঙ্গে শ্রীরামামূর্তি ধূলিপালা, তবলায় প-িত তন্ময় বোস এবং মোর্সিংয়ে সত্য সাঁই ঘণ্টাশালা সঙ্গত করেন। বেহালার সুর থামতেই উৎসব আঙিনায় ভেসে বেড়ায় অর্কেস্ট্রার সুর। ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যাল কম্পোজিশনটি উপস্থাপন করে ৫৬ সদস্যের কাজাখস্থানের আসতানা সিম্ফনি ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রা। এর পর বেহালাবাদক ড. এল সুব্রামানিয়ামের সঙ্গে যুগলবন্দি হয়ে পরিবেশনায় আসে আসতানা সিম্ফনি ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রা।
রাগ-রাগিনীর খেলা ছিল বাংলাদেশে বসবাসরত ভারতীয় শিল্পী রাজরূপা চৌধুরীর সরোদে। তিনি নামতেই ভারতের গোয়ালিয়র, কিরানা ও জয়পুর ঘরানায় খেয়াল পরিবেশন করেন শিল্পী পদ্মা তালওয়ালকর। এর পর সেতার বাদনে অংশ নেন বাংলাদেশের শিল্পী ফিরোজ খান। তিনি নামতেই মঞ্চে ওঠেন বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষানবিশ সুপ্রিয়া দাস। তার খেয়ালে মুগ্ধ হন স্টেডিয়ামভর্তি দর্শক-শ্রোতারা। ভোররাতে দিনের শেষ পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন ভারতীয় বংশীবাদক রাকেশ চৌরাশিয়া ও সেতারবাদক পূর্বায়ণ চট্টোপাধ্যায়।
প্রধান অতিথি হিসেবে ষষ্ঠতম উৎসব উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও আবাহনী লিমিটেডের সভাপতি সালমান এফ রহমান, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এবং স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু।
আজকের সুরজাল
আজ বুধবার উৎসবের দ্বিতীয় দিনে কত্থক নৃত্য পরিবেশন করবেন অদিতি মঙ্গলদাস ড্যান্স কোম্পানির নৃত্যশিল্পীরা। তবলা বাদনে অংশ নেবেন বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এর পর সন্তুর নিয়ে মঞ্চে উপস্থিত হবেন গত আসরগুলোয় শ্রোতাকে মুগ্ধ করা প-িত শিবকুমার শর্মা। খেয়াল পরিবেশন করবেন প-িত উলহাস কশলকর, সেতার বাজিয়ে শোনাবেন ওস্তাদ শাহিদ পারভেজ খান। ধ্রুপদ পরিবেশন করবেন বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থী অভিজিত কু-ু। সব শেষে থাকবে প-িত রনু মজুমদারের বাঁশি এবং প-িত দেবজ্যোতি বোস সরোদে যুগলবন্দি পরিবেশনা।

View Full Article