Menu

আবারও সুরের উৎসবে মাতবে দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অপেক্ষার পালা শেষ। আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে ধ্রুপদী সংগীত ও নৃত্য নিয়ে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উত্সব। আবারও সুরের উত্সবে মাতবে সুর পিপাসুরা। পাঁচ দিনের এই উত্সব এবার উত্সর্গ করা হচ্ছে প্রয়াত লেখক সৈয়দ শামসুল হককে। ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উত্সবের উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত চলবে সুর-তাল-লয়ের খেলায় বৈচিত্র্যময় ধ্রুপদী পরিবেশনা।
উত্সবে অংশ নেবেন বাংলাদেশের ১৬৫ শিল্পী। উদ্বোধনী পর্বে নৃত্য শিক্ষক শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা ও নির্দেশনায় নৃত্যনন্দন দলের প্রায় ৬০ শিল্পী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূল গান ও ভাঙা গানে মণিপুরী, ভরতনাট্যম, ওড়িশি ও কত্থক রীতির রূপায়ণ পরিবেশন করবেন। এ ছাড়া উত্সবের বিভিন্ন দিনে সেতার, সরোদ ও তবলায় যন্ত্রসংগীত পরিবেশন করবে বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীরা। এবারের উত্সবের অংশ নিচ্ছেন বেনারস ঘরানার পদ্মবিভূষণ খেতাবপ্রাপ্ত ৮৭ বছরের প্রবাদপ্রতিম শিল্পী বিদুষী গিরিজা দেবী। উত্সবের প্রবীণতম এই শিল্পী খেয়াল, ঠুমরি ও টপ্পার পরিবেশনায় ছড়াবেন পূরব অঙ্গের রূপ-রস।
প্রথম দিনের পরিবেশনায় অংশ নেবেন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্ম নেওয়া কিংবদন্তি শিল্পী আলাউদ্দিন খাঁর বংশধর ওস্তাদ আশীষ খাঁ। পুরুষ ও নারী কণ্ঠের ভিন্ন স্তরের রাগে পরিবেশিত জাসরাঙ্গি শীর্ষক যুগলবন্দি পরিবেশনায় অংশ নেবেন জয়পুর আত্রোলির বিদুষী অশ্বিনী ভিদে ও মেওয়াতি ঘরানার পণ্ডিত সমঞ্জীব অভয়ঙ্কর।
উত্সবের প্রথম দিনে পশ্চিমা ও ঢংয়ে বেহালা বাজিয়ে শোনাবেন পদ্মভূষণপ্রাপ্ত ড. এল সুব্রহ্মণ্যন। উত্সবে প্রথমবারের মতো শোনা যাবে ম্যান্ডোলিনের সুর। বাঁশি ও ম্যান্ডোলিনের যুগলবন্দি পরিবেশন করবেন গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত বংশীবাদক রনু মজুমদার ও ইউ রাজেশ।
এবারও অনন্য এই সংগীত আসরে অংশ নেবেন প্রবাদপ্রতিম বাঁশরিয়া পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া। শোনা যাবে পণ্ডিত শিবকুমার শর্মার মোহনীয় সন্তুরের সুর। কণ্ঠসংগীত ও বাদ্যের নানা পরিবেশনা নিয়ে হাজির হবেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী, পণ্ডিত উলহাস কশলকর, ওস্তাদ রশিদ খান, পণ্ডিত কুশল দাস, পণ্ডিত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার ও পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকার। শোনা যাবে বিশিষ্ট সেতার পণ্ডিত সঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেতারের বাজনা। থাকবে পদ্মভূষণপ্রাপ্ত কিরানা ঘরানার কোকিলকণ্ঠী শিল্পী ড. প্রভা আত্রে এবং ফরুকাবাদা ঘরানার খ্যাতিমান তবলিয়া পণ্ডিত অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় ও তার ছেলে অনুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের পরিবেশনা।
বাঁশি ও বেহালার যুগলবন্দি পরিবেশনায় রং ছড়াবেন প্রবীণ গোধকিণ্ডি ও রাতিশ টাগডের। যৌথ তবলাবাদনে অংশ নেবেন পণ্ডিত যোগেশ শামসী ও পণ্ডিত শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন মেজাজের শাস্ত্রীয় সংগীত উপস্থাপন করবেন সেতারে রাগসংগীতের নন্দিত শিল্পী পূর্বায়ণ চট্টোপাধ্যায়, কর্ণাটকি সংগীতে পারদর্শী ভগ্নিদ্বয় রঞ্জনী ও গায়ত্রী, কর্ণাটকি বংশীবাদক শশাঙ্ক সুব্রহ্মণ্যন, খেয়ালিয়া আরবতহী আঙ্কালিকার, জয়তীর্থ মেউন্ডি ও কুমার মারদুর। কনিষ্ঠতম শিল্পী হিসেবে উত্সবে অংশ নেবেন বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থী ইসরাত ফুলঝুরি খান। সাত বছরের এই শিল্পী সেতার বাজিয়ে শোনাবেন। আয়োজকরা জানান, এবারের উত্সবে প্রাধান্য পাবে নবীন শিল্পীদের উপস্থিতি ও একাধিক যৌথ পরিবেশনা।