Menu

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ২০১৬–মহড়ায় ব্যস্ত যেন পুরো শহর

thumbnail

 

শিল্পীদের ফোনে পাওয়া দুষ্কর। সবার ফোনই শীতনিদ্রায় গেছে। কারণ, সবাই এখন মহড়ায় ব্যস্ত। কেউ নাচের মুদ্রাগুলো ঝালিয়ে নিচ্ছেন, কেউ আবার গানের চর্চায় ব্যস্ত। বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ২০১৬-তে অংশ নেওয়া গান ও নাচের দলগুলোর মহড়ার বৃত্তান্ত তাই আর মুঠোফোনে নেওয়া গেল না। তাঁদের কথা জানতে ছুটে যেতে হলো শহরের নানা প্রান্তে। শিল্পকলা একাডেমি, ডেইলি স্টার-বেঙ্গল আর্ট প্রিসিঙ্কট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ক্যাম্পাস আর শিল্পীদের নিজ নিজ বাড়ি হয়ে উঠেছে একেকটি মহড়াকেন্দ্র। আজ থাকছে নৃত্যশিল্পী শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের মহড়ার কথা। দলটি উৎসবের প্রথম দিন, অর্থাৎ ২৪ নভেম্বর উৎসবে নৃত্য পরিবেশন করবে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে সকাল থেকেই চলছে নৃত্যশিল্পী শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দলের মহড়া। দুপুর ১২টার দিকে সেখানকার সংগীত ও নৃত্যকলা ভবনের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকেই দেখা গেল, গোলচত্বরের কাছে কয়েকজন মহড়া করছেন। বড় খোলা জায়গার উঁচু বেদিটায় বসা শর্মিলা বন্দে্যাপাধ্যায়। ১০ জন শিল্পী নাচছেন। কাছে যেতেই বলেন, ছোট ছোট অনেকগুলো পরিবেশনাকে জুড়ে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের জন্য তাঁরা তৈরি করেছেন ‘রবিকরোজ্জ্বল নৃত্যমালিকা’। সব মিলিয়ে প্রায় ৫৫ জন শিল্পী এই পরিবেশনায় অংশ নেবেন। থাকবে সিলেট থেকে আসা বাদকদের একটি দল।
গত জুন-জুলাইয়ে উৎসব আয়োজকেরা শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিলে তাঁর মাথায় আসে রবীন্দ্রনৃত্যভাবনার কথা। তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিতে কিন্তু বিভিন্ন অঞ্চলের লোকধারার প্রভাব খুঁজে পাওয়া যায়। তাঁর কোনো গানে পাওয়া গেছে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের সুরের ধারা, কোনোটায় ছিল পাঞ্জাবি ধাঁচ। আমাদের পরিবেশনায় আমরা সেই মূল আঞ্চলিক ধারার পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিগুলোকেও উপস্থাপন করছি।’
মহড়া কেমন চলছে? জানতে চাইলে শর্মিলা বন্দে্যাপাধ্যায় বলেন, ‘নিশ্বাস ফেলার সময় নেই। শেষ মুহূর্তের মহড়া, পোশাক, প্রপস গোছানো—সব করতে হচ্ছে। অনেক সময় সব শিল্পীকে একবারে পাওয়া যাচ্ছে না। এর পরীক্ষা তো ওর ক্লাস-কোচিং, নানা সমস্যা। তার ওপর ঢাকা শহরের যানজট তো আছেই। মহড়ার শিল্পী, সময় আর স্থান সমন্বয় করতে করতেই দিন ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু সবাই অত্যন্ত সহযোগিতা করছেন আমাদের। ভারত থেকে ছুটে এসেছেন অনেকে। তাই বিষয়টি কঠিন হলেও সবার সহযোগিতায় কাজটি সহজ হয়ে যাচ্ছে।’
তবে মহড়ার ফাঁকে একটি আক্ষেপের কথাও বললেন শর্মিলা বন্দে্যাপাধ্যায়। বললেন, এই শহরে মহড়াকেন্দ্রের অভাবের কথা। তিনি বলেন, ‘মহড়ার স্থান খুঁজে পাওয়ার জন্য রাত-দিন আমাদের সংগ্রাম করতে হয়। ছায়ানট আর শিল্পকলা একাডেমি ছাড়া মহড়ার কোনো সুবিধাজনক স্থানই আমাদের নেই। শিল্পকলা একাডেমির মতো বিশাল কেন্দ্রেও নাচের জন্য আছে মাত্র দুটি মহড়াকেন্দ্র।’ কিন্তু এরপরও আশাবাদী শর্মিলা বন্দে্যাপাধ্যায়। কারণ, এই উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব দিন দিন যেভাবে তরুণদের স্বপ্নের মঞ্চ হয়ে উঠছে, তা আভাস দিচ্ছে শুদ্ধ শিল্পচর্চার উজ্জ্বল এক ভবিষ্যতের।

 

View Full Article